শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা: সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের জায়গা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, একসময় যে প্রতিষ্ঠান বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেখানে এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি টাঙিয়ে জাতির নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের এই সংসদ সদস্য।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? এখানে তো কারও ভর্তি হওয়া উচিত না। এটাতো মাদ্রাসা একটা, সিনিয়র মাদ্রাসা। অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার?’তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় বাঙালির শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক জাগরণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয় বহু গুণী শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর জন্ম দিয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরলেন ফজলুর রহমানবক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির পথ তৈরি করেছে। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মুজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, ড. নাজমা চৌধুরী, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও হুমায়ূন আহমদের মতো ব্যক্তিত্বের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি টাঙানোর অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসারি করার? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আজম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার আশঙ্কাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও নেতাজি সুভাষ বসুর মতো নেতাদের অবদান স্মরণ করা প্রয়োজন।ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বরকত, সালাম, রফিক ও জব্বারের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য তরুণ জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, তারা দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং দিনের পর দিন প্রতিকূল আবহাওয়ায় যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।‘বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান?’দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি আরও পাঁচ বছর বেঁচে থেকে বাংলাদেশকে দেখতে চান। দেশটি বাঙালির বাংলাদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তানে পরিণত হবে—তা দেখে যেতে চান তিনি।তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জীবনের শেষ লড়াই চালিয়ে যেতে চান।মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার সাহসী হয়ে উঠছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে। এমনকি মৃত্যুর পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথাযথ সম্মান ও কবর পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা: সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান