হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর পরিচর্যার অভাবে শতাধিক চারা মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোপণের পর নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও গবাদিপশুর হাত থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চারা শুকিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।গত ১২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এবং ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।কর্মসূচির সময় চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার কথা বলা হলেও রোপণের পর পর্যাপ্ত তদারকি করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনের আশপাশ ও আবাসিক হলের সামনের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনিয়মিত পানি দেওয়ার কারণে অনেক চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও পর্যাপ্ত ট্রি-গার্ড না থাকায় গবাদিপশুর কারণে কিছু চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি চারার আশপাশে আগাছা জন্ম নেওয়ায়ও গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আবাসিক এলাকার চারাগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো বলে জানা গেছে।শিক্ষার্থীদের দাবি, রোপণ করা চারার মধ্যে ইতোমধ্যে শতাধিক চারা মারা গেছে এবং আরও অর্ধশতাধিক চারা শুকিয়ে যাওয়ার পথে। তাদের অভিযোগ, এতে রোপণ করা চারার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিবছর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গাছ লাগানো হলেও রোপণের পর পরিচর্যার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। তাদের মতে, শুধু প্রচারণা বা কর্মসূচি পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রোপণ করা প্রতিটি গাছের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, চারা রোপণের পেছনে অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়। তাই নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি আগের চারাগুলোর পরিচর্যা, পানি সরবরাহ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম এমদাদুল হাসান এবং হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এহসানুল কবির অর্ণবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।