সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণে ২৩টি ত্রুটি শনাক্ত, সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের বিল বন্ধ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণকাজে ২২ থেকে ২৩টি নির্মাণগত ত্রুটি শনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তে এসব ত্রুটি উঠে এসেছে। চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সম্পন্ন না করা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি একটি পত্রিকায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে নির্মাণাধীন প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম পরিদর্শন করেন। এ সময় ভবনের বিভিন্ন অংশে নির্মাণগত ত্রুটি ও অসংগতি তাঁদের নজরে আসে।তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক জানান, সরেজমিন পরিদর্শনে ২২ থেকে ২৩টি ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, সংশোধনকাজ শেষ হলে তদন্ত কমিটি পুনরায় ভবন পরিদর্শন করবে। কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেলেই ইতিবাচক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করা হবে না।সদর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. মাইনুল হক জানান, তদন্তে চিহ্নিত ত্রুটিগুলোর সংশোধনকাজ চলমান রয়েছে। চৌকাঠের যেসব স্থানে সমস্যা ছিল, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি বারান্দায় নকশাবহির্ভূতভাবে বসানো টাইলস খুলে নকশা অনুযায়ী নতুন টাইলস স্থাপন করা হয়েছে।চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ হস্তান্তরের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির পুনঃপরিদর্শনে কাজের মান নিশ্চিত হওয়ার পরই বিল পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরিনা কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, ‘Extension of Upazila Complex Project (2nd Phase)’-এর আওতায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। EUCPW-86 প্যাকেজের এই কাজের টেন্ডার আইডি ৪৫১৬০৭। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেরিনা কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৭ কোটি ৮ লাখ ১২ হাজার ২০৯ টাকা।তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি ও নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্থাপনার নির্মাণকাজে একাধিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন নয়, পুরো ভবন ও হলরুমের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে।