নাসার ঘাঁটি থেকে ‘গায়েব’ এসআর-৭১ ব্ল্যাকবার্ড, রহস্য ঘনীভূত
ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের প্রদর্শনী এলাকা থেকে ঐতিহাসিক SR-71A ব্ল্যাকবার্ড সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এভিয়েশন উইকের প্রতিরক্ষা সম্পাদক স্টিভ ট্রিম্বলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবিতে ৮৪৪ টেইল নম্বরের বিমানটিকে ১৭ মে’র পর আর দেখা যায়নি। নাসার এই বিমান সরানোর ঘটনা সামনে আসে এমন এক সময়ে, যখন সংস্থাটি নতুন প্রজন্মের এক্স-প্লেন নিয়ে কাজের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সম্প্রতি একটি ব্ল্যাকবার্ড-সদৃশ সিলুয়েট দেখিয়েছেন এবং এক্স-প্লেন বহর পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছেন। তবে SR-71 সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে নতুন কোনো পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে’ এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি। এভিয়েশন উইকের প্রতিবেদনে আইজ্যাকম্যানের একটি মন্তব্যও উঠে এসেছে’ ‘আপনি কি নিশ্চিত যে ওটা একটা ব্ল্যাকবার্ড?’ এ মন্তব্যের পর বিমানটি ঘিরে জল্পনা আরও বাড়ে। তবে নাসা নতুন কোনো ব্ল্যাকবার্ড-ধাঁচের উড়োজাহাজ তৈরি করছে’ এমন বিষয়ও এখনো নিশ্চিত নয়।নাসার তথ্য অনুযায়ী, NASA 844 ছিল তাদের ব্যবহৃত SR-71A। বিমানটি উচ্চগতির ও উচ্চ-উচ্চতার গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে। এর গবেষণার মধ্যে ছিল বায়ুগতিবিদ্যা, প্রপালশন, কাঠামো, তাপ সুরক্ষা, উচ্চগতির যন্ত্রপাতি এবং সনিক বুম নিয়ে পরীক্ষা। NASA 844-এর শেষ গবেষণা উড্ডয়ন হয় ১৯৯৯ সালে। নাসার ইতিহাসবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এরপর বিমানটি আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারে প্রদর্শনীতে রাখা হয়। অন্যদিকে, নাসার বর্তমান X-59 Quesst প্রকল্পের লক্ষ্য হলো শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড্ডয়নের সময় প্রচলিত শক্তিশালী সনিক বুমের পরিবর্তে তুলনামূলক কম শব্দের ‘সনিক থাম্প’ তৈরি করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। ২০২৬ সালের জুনে X-59 প্রথমবার সুপারসনিক গতিতে উড্ডয়নও করে।
তবে SR-71A 844 বর্তমানে ঠিক কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা এটি কোনো নতুন গবেষণা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নাসার পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিমানটি ‘গায়েব’ হওয়ার বিষয়টি আপাতত সরিয়ে নেওয়া ও সম্ভাব্য নতুন গবেষণা কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য হিসেবেই রয়েছে।