শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

ইতালিতে ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্মঘট, রাজপথে শ্রমিক-শিক্ষার্থীরা

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বাজেট হ্রাস এবং সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিবাদে ইতালিজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রধান ট্রেড ইউনিয়নগুলোর (ইউএসবি) ডাকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমে আসেন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিবাসীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।ধর্মঘটের আয়োজকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধি এবং জনসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।এর আগে বিভিন্ন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী রোমসহ ইতালির কয়েকটি বড় শহরে উত্তেজনা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। এসব পরিস্থিতি নিয়ে মেলোনি সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে।সরকারবিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমনের পাশাপাশি নিজেদের দায় এড়াতে সরকার তরুণ আন্দোলনকারী ও অভিবাসী পরিবারের তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে সমাজে বিভাজন আরও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের নামে সহিংসতা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সরকারের অবস্থান।এদিকে ইতালিতে চলমান অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নানা সংকটও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে এক যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। ছেলেকে উদ্ধারে মায়ের নাকফুল বিক্রির ঘটনাও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।শ্লেষকদের মতে, সরকারের বাজেট নীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে ইতালিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচন এবং রোম, মিলান ও নেপলসের মতো বড় শহরের স্থানীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতালিতে ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্মঘট, রাজপথে শ্রমিক-শিক্ষার্থীরা