বালিশ ভুল হলেই ঘাড়ে ব্যথা! সঠিক বালিশ চিনবেন যেভাবে
রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, সকালে ঘাড় শক্ত লাগা কিংবা ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড়-কাঁধে ব্যথা—এসবের পেছনে ঘুমের সময় বা মানসিক চাপের পাশাপাশি ভুল বালিশও ভূমিকা রাখতে পারে। মাথা ও ঘাড়কে সঠিক সমর্থন না দিলে দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকতে পারে, যার ফলে অস্বস্তি বা ব্যথা তৈরি হতে পারে।তাই বালিশ কেনার সময় শুধু নরম, সুন্দর কিংবা দামি কি না—তা দেখলেই হবে না। আপনি কীভাবে ঘুমান, বালিশের উচ্চতা ও দৃঢ়তা এবং ঘাড়কে কতটা সমর্থন দিচ্ছে, এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।কাত হয়ে ঘুমালেকাত হয়ে ঘুমানোর সময় মাথা ও কাঁধের মাঝের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে তুলনামূলক বেশি উচ্চতা ও ভালো সমর্থন দেওয়া বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। খুব পাতলা বালিশে মাথা নিচের দিকে নেমে গিয়ে ঘাড়ে চাপ তৈরি করতে পারে।এ অবস্থায় হাঁটুর মাঝখানে ছোট বালিশ রাখলেও কোমর ও মেরুদণ্ডের অবস্থান আরামদায়ক রাখতে সহায়তা করতে পারে।চিৎ হয়ে ঘুমালেচিৎ হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উঁচু বালিশ এড়িয়ে চলা ভালো। এমন মাঝারি উচ্চতার বালিশ বেছে নেওয়া উচিত, যা মাথাকে বেশি সামনে ঠেলে না দিয়ে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁককে সমর্থন করে।প্রয়োজনে হাঁটুর নিচে বালিশ রাখলে কোমরের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।উপুড় হয়ে ঘুমালেউপুড় হয়ে ঘুমানোর সময় মাথা একদিকে ঘুরিয়ে রাখতে হয়, ফলে ঘাড়ে চাপ পড়তে পারে। এ অবস্থায় খুব মোটা বালিশ ব্যবহার না করে পাতলা ও নরম বালিশ তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।তবে ঘাড় বা পিঠে ব্যথা থাকলে সম্ভব হলে উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস এড়িয়ে অন্য ভঙ্গিতে ঘুমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।বালিশ কতটা উঁচু হবে?বালিশের নির্দিষ্ট উচ্চতা সবার জন্য এক নয়। কাঁধের গঠন, ঘুমের ভঙ্গি, গদির ধরন এবং বালিশে মাথা রাখার পর সেটি কতটা বসে যায়—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়।সহজ নিয়ম হলো, বালিশে মাথা রাখার পর ঘাড় যেন অতিরিক্ত সামনে, পেছনে বা একদিকে বাঁকা না থাকে।নরম নাকি শক্ত বালিশ?অতিরিক্ত নরম বালিশ মাথার চাপে বেশি বসে গিয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত শক্ত বালিশও সবার জন্য আরামদায়ক নয়।তাই শুধু ‘নরম’ বা ‘শক্ত’ নয়—মাথা ও ঘাড়কে স্থির, স্বাভাবিক ও আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে পারছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।মেমোরি ফোম নাকি তুলার বালিশ?তুলা, ফাইবার, মেমোরি ফোম, ল্যাটেক্সসহ বিভিন্ন ধরনের বালিশ বাজারে পাওয়া যায়। মেমোরি ফোম মাথা ও ঘাড়ের আকৃতির সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে। তবে কোনো একটি উপাদান সবার জন্য উপযুক্ত এমন নয়।নিজের ঘুমের ভঙ্গি, আরাম ও ঘাড়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বালিশ বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।সকালে ঘাড় ব্যথা হলে বালিশ দেখুনঘুম থেকে ওঠার পর নিয়মিত ঘাড় শক্ত বা ব্যথা লাগলে নিজের বালিশটি পরীক্ষা করুন। যেমন
বালিশটি কি অতিরিক্ত পুরোনো?
আগের তুলনায় কি বেশি চুপসে গেছে?
মাথা রাখলে কি অনেক নিচে নেমে যায়?
ঘাড়কে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে কি?
বালিশ ব্যবহারের পর ঘাড় বা কাঁধে নিয়মিত ব্যথা হচ্ছে কি?
তবে ঘাড়ের ব্যথার কারণ শুধু বালিশ নয়। ভুল ঘুমের ভঙ্গি, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার এবং পেশিতে টানসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।বালিশে ঘাম, ধুলো ও ত্বকের তেল জমতে পারে। তাই নিয়মিত কাভার পরিষ্কার করা এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী বালিশ পরিষ্কার করা জরুরি।বালিশে দুর্গন্ধ, দাগ বা অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।বালিশ আগের আকৃতি ধরে রাখতে না পারলে, মাঝখানে বসে গেলে, ভাঁজ করার পর স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে কিংবা পরিষ্কার করার পরও দুর্গন্ধ থেকে গেলে সেটি বদলানোর কথা ভাবতে পারেন।এ ছাড়া নতুন বালিশে ঘুমানোর পর অস্বস্তি কমে গেলে পুরোনো বালিশটি প্রয়োজনীয় সমর্থন দিচ্ছিল না এমন সম্ভাবনাও থাকতে পারে।বালিশ কেনার আগে ৭টি বিষয়১. ঘুমের ভঙ্গি: কাত, চিৎ নাকি উপুড়?
২. উচ্চতা: ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থায় থাকছে কি না।
৩. দৃঢ়তা: অতিরিক্ত শক্ত বা নরম কি না।
৪. উপাদান: আপনার জন্য আরামদায়ক কি না।
৫. ঘাড়ের সমর্থন: ঘুমের সময় চাপ তৈরি হচ্ছে কি না।
৬. পরিষ্কার করা: কাভার ও বালিশ পরিষ্কার রাখা সহজ কি না।
৭. ব্যক্তিগত আরাম: মাথা রাখার পর স্বাভাবিক ও আরামদায়ক লাগছে কি না।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, সবার জন্য একই বালিশ উপযুক্ত নয়। নিজের ঘুমের অভ্যাস ও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী বালিশ নির্বাচন করাই গুরুত্বপূর্ণ। আর ঘাড় বা পিঠের ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে, হাতে অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিলে কিংবা ব্যথা কাঁধ বা হাতে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।