বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

ফারইস্ট লাইফের টাকা ফেরত কবে? অপেক্ষায় লাখো গ্রাহক

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিমা দাবির টাকা ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থ না পেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রাহকরা রাজধানীর তোপখানা রোডে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে এসে টাকা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন।বুধবারও কয়েকজন ক্ষুদ্র আমানতকারী প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে তাদের পাওনা অর্থ ফেরতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। ময়মনসিংহ থেকে আসা এক গ্রাহক জানান, পাঁচ বছর ধরে তিনি তার টাকা পাচ্ছেন না। কষ্ট করে সঞ্চয় করা অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবিও জানান তিনি।গ্রাহকদের অনেকেই ডিম-মুরগি বিক্রি, দিনমজুরি কিংবা ছোট ব্যবসার আয় থেকে অল্প অল্প করে বিমার টাকা জমিয়েছিলেন। কারও কাছে এই অর্থ সন্তানের পড়াশোনা, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা কিংবা অবসর জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। ফলে দীর্ঘদিন বিমা দাবি পরিশোধ না হওয়ায় তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৮১৬ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার ৪৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়।পরে মামলাটির তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত শেষে নজরুল ইসলাম, সাবেক সিইও মো. হেমায়েত উল্যাহসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।তদন্তে ভুয়া চিঠি ও ভাউচার তৈরি, তথ্য গোপন এবং কোম্পানির বিনিয়োগ করা অর্থ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।৩৬ তোপখানা রোডের জমি ও ভবন কেনার ক্ষেত্রে ৪৫ কোটি টাকা এবং ৭২ কাকরাইলের জমি ও ভবন কেনার ক্ষেত্রে ১১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকার জমির উন্নয়ন ব্যয় দেখিয়ে ৯২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।মামলায় ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।অন্যদিকে সাবেক সিইও হেমায়েত উল্যাহকেও সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি দুর্নীতি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।নজরুল ইসলাম ও হেমায়েত উল্যাহর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।ফারইস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলাও রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন।দুদকের আবেদনে এসব সম্পদ হস্তান্তর বা পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এদিকে, তোপখানা রোডের জমি ও স্থাপনা কেনাবেচায় অনিয়মের মাধ্যমে ফারইস্টের ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নজরুল ইসলামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলাটিও চলমান রয়েছে।

ফারইস্ট লাইফের টাকা ফেরত কবে? অপেক্ষায় লাখো গ্রাহক