আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র ধরেছিলেন, দাবি প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্স করা অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনা নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য প্রকাশ করে অপতথ্য ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান ইশরাক।হামলার আশঙ্কার কথা জানালেন ইশরাকফেসবুক পোস্টে ইশরাক দাবি করেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।ইশরাক আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য বিপদ কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং তা প্রদর্শন করা হয়েছিল আত্মরক্ষার স্বার্থে।গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে অভিযোগবিবৃতিতে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে আপত্তি জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসব গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি।ইশরাকের দাবি, সংবাদগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র জব্দ এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানান।অভিযানে মাদক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দের দাবিইশরাক জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়।তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব স্থান থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদক, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবিপ্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৬ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন।তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন।ইশরাক আরও বলেন, জনবল সংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকারইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তবে অস্ত্র প্রদর্শনের পরিস্থিতি, অভিযানের বিস্তারিত এবং জব্দ করা আলামত সম্পর্কে ইশরাকের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।