শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা, কঠোর হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পোশাকশিল্পে চলমান সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, গার্মেন্টস খাতে বর্তমানে যা ঘটছে, তা কোনো স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলন নয়। সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমানে কোনো অমীমাংসিত দাবিদাওয়া নেই। এরপরও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কিছু বহিরাগত ও অশ্রমিক ব্যক্তি হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের তদন্তে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন গার্মেন্টস মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি মাফিয়া ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিচালিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব সহিংসতা কঠোর হাতে দমনে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য ২০২৭ সালের জানুয়ারিতেপোশাকশ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পরপর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা। এ বিষয়ে সরকার আগেই উদ্যোগ নিয়েছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।তিনি বলেন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। তবে প্রতিনিধি তালিকা পাওয়ার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্য নির্ধারণ করে বোর্ড কাজ করছে বলে জানান তিনি।শ্রমিকবান্ধব সরকার, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক ও শিল্পবান্ধব। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।সরকারের মূল লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।মন্ত্রী দাবি করেন, মালিক ও শ্রমিক নেতারা উভয়েই একমত হয়েছেন যে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন নয়; বরং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য শ্রমিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে।অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশচলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।তিনি বলেন, সরকার ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তারা সংযম বজায় রেখেছেন এবং শ্রমিকদের ওপর বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছেন।তবে এ সুযোগে মাফিয়া ও অপরাধী চক্রকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সাধারণ শ্রমিকদের গুজব ও উসকানিতে কান না দিয়ে দ্রুত নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও সুরক্ষিত থাকবে।ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক নিয়ে যা বললেন মন্ত্রীসাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।প্রেস ব্রিফিংয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা, কঠোর হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর