চুনারুঘাটে গণধর্ষণের আসামি হাবিব অধরা, মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে হুমকি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি হাবিবুর রহমান ওরফে শাওনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলা তুলে নিতে বাদিনীকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদিনী জমিলা খাতুন।জমিলা খাতুনের অভিযোগ, বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে তাঁকে সাবেক স্বামীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাবিবুর রহমান শাওন, ওয়াহিদ মিয়াসহ তিনজন ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় তিনি চুনারুঘাট থানায় সাবেক স্বামীসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও দ্বিতীয় আসামি শাওন এখনো গ্রেপ্তার হননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শাওন ও তাঁর সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।সমঝোতার কথা বলে ডেকে নেওয়ার অভিযোগমামলার বিবরণ অনুযায়ী, সাবেক স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ও খোরপোষ নিয়ে বিরোধের জেরে জমিলা খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জুন বিকেলে সাবেক স্বামীর কয়েকজন বন্ধু বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাঁকে চুনারুঘাটের কাপুরিয়া এলাকায় সাবেক স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে তিনজন মিলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন জমিলা খাতুন।শাওনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার তথ্যএদিকে হাবিবুর রহমান শাওনের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে আরও একটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল শায়েস্তাগঞ্জের পুরান বাজার এলাকা থেকে আমিনা আক্তার উর্মি নামের এক কিশোরীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চারজন মিলে ধর্ষণ করেন।এ ঘটনায় উর্মির বোন বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাবিবুর রহমান শাওনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।হাবিবুর রহমান শাওন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৬ নম্বর রাজিউড়া ইউনিয়নের উছাইল চাড়িনাও গ্রামের বিলাল মিয়ার ছেলে।গ্রেপ্তারের দাবিস্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শাওন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নারীদের হয়রানির ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী জমিলা খাতুনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।উল্লেখ্য, মামলায় অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।