বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

ভারত থেকে ১৫০ ‘কথিত’ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া

বেআইনিভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ জন ‘কথিত’ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত সরকার। প্রথম দফার এই ব্যক্তিদের কাশ্মীর থেকে বিশেষ বিমানে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।ভারতীয় প্রশাসনের দাবি, কাশ্মীর উপত্যকায় পরিচালিত বিশেষ জরিপে প্রায় ৬০০ জন কথিত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই প্রথম দফায় ১৫০ জনকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে শ্রীনগর থেকে ওই ব্যক্তিদের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে তাদের ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে আরও অন্তত ১৫০ জনের দ্বিতীয় দল একইভাবে সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হতে পারে বলেও সূত্র জানিয়েছে।শ্রীনগরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উপত্যকাজুড়ে বিশেষ জরিপ চালায়। ওই জরিপে প্রায় ৬০০ জন কথিত বেআইনি বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তার। চিহ্নিত অন্যদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলবে বলে জানান তিনি।সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে গত ২৬ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ গঠন করে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নালকরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।কমিটি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন রাজ্যের ধর্মীয় জনমিতি, শিল্পাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলার তথ্য পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। কমিটির কার্যক্রম শুরুর পর অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি।তবে কাশ্মীর উপত্যকায় পরিচালিত এ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।২০২২ সালের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল।ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ১৩ হাজার ৪০০ মিয়ানমার ও বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের একাংশের বিরুদ্ধে মাদকপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা রয়েছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।এর আগে ২০২১ সালের মার্চেও যাচাই-বাছাই শেষে শতাধিক নথিহীন ব্যক্তিকে হীরানগরের একটি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ভারতের করদাতাদের অর্থে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অনুপ্রবেশকারীকে রাখা উচিত নয়। এ বিষয়ে বিজেপির অবস্থান হিসেবে তিনি ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করলেও ভারতের বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকা বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ভারত থেকে ১৫০ ‘কথিত’ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া