রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

শ্রমিক অসন্তোষে বড় সিদ্ধান্তের পথে বিজিএমইএ, পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্ধ হবে কারখানা!

পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন মালিকরা। শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।রোববার (১ নভেম্বর) চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা জানান।বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মালিকরা কারখানা বন্ধ করতে চান না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সদস্যদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছি। কাল যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আমাদের সদস্যরা বিজিএমইএকে এই ম্যান্ডেট দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে তারা শ্রম আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। আমরা সেই জায়গায় যেতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করলে ওই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’৬০০ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহতচলমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাকশিল্পে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি।তিনি জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২৩৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের খাবারের বিরতির পর সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি।মাহমুদ হাসান খান বলেন, গত পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে অনেক উদ্যোক্তা কারখানা খুলেও স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিজিএমইএর সদস্যরা সংগঠনের ভূমিকা এবং সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছেন।বিশৃঙ্খলা নয়, আইন মেনে চলার আহ্বানবিজিএমইএর সভায় উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।তিনি বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে বোর্ড গঠন। সেটি গঠনের আগেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে মজুরি আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের উদ্যোগএর আগে পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ মোকাবিলায় সরকার মজুরি পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন।এদিকে পোশাকশিল্পের চলমান সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শ্রমিক অসন্তোষ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং কারখানা বন্ধের আশঙ্কায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী দিনে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্প খাতে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রমিক অসন্তোষে বড় সিদ্ধান্তের পথে বিজিএমইএ, পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্ধ হবে কারখানা!