সৌদিতে ৬ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তীব্র ইয়েমেন যুদ্ধ
সৌদি আরবের তায়েফ ও লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু এলাকার দিকে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি। এর আগে জেদ্দা, মক্কা, তায়েফ, ইয়ানবু ও তাবুকসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব এলাকায় তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে। ইয়ানবু সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প পথ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে এই বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের গুরুত্ব বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব এই বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অপারেশন রুম, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, অস্ত্রের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র ছিল হামলার লক্ষ্য। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের যেকোনো উত্তেজনা ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরেও হুতিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাইজ প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহপথ দখলের জন্য হুতিদের রাতভর চালানো হামলা প্রতিহত করেছে। হুতিরা তাইজ, লাহজ ও আদেনকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থান দখলের চেষ্টা করেছিল বলে সরকারি বাহিনীর দাবি। ‘হেজাত আল-আবদ’ নামে পরিচিত দুর্গম পাহাড়ি পথটি তাইজে পণ্য পরিবহন ও সরকারি বাহিনীর সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল না থাকায় হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দাদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনের সংঘাত অনেকটা স্থবির থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাইজসহ কয়েকটি পুরোনো যুদ্ধফ্রন্টে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। দেশের ভেতরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ নৌপথে আফ্রিকার দিকে পালিয়েছেন।