মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহার কি জায়েজ?

ছোটবেলায় বন্ধুর শ্যাম্পু, সাবান, টিস্যু কিংবা অন্য কোনো জিনিস অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করাকে অনেকেই তেমন গুরুতর বিষয় মনে করেন না। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা রুমমেট হলে মনে হয়, পরে বলে দিলেই হবে।কিন্তু ইসলামী বিধান অনুযায়ী, অন্যের সম্পদ বা ব্যক্তিগত জিনিস তার অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বৈধ নয়। সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, মালিকের অনুমতি নেওয়া জরুরি।এক মাদ্রাসায় ক্লাস এইটে পড়ার সময় কয়েকজন বন্ধু একই কক্ষে থাকত। তাদের একজনের বাবা প্রবাসে থাকায় তিনি বিদেশি শ্যাম্পু ও সাবান পাঠাতেন। বন্ধুদের কেউ অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ব্যবহার করত। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই বন্ধু বোতলে দাগ কেটে রাখত, যাতে বোঝা যায় তার জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে।তখন বিষয়টি নিয়ে বন্ধুরা খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বরং তাদের ধারণা ছিল, বন্ধুর জিনিস ব্যবহারে আবার অনুমতি নেওয়ার কী আছে! কিন্তু পরবর্তীতে হাদিস ও ইসলামী বিধান সম্পর্কে জানার পর সেই আচরণের জন্য অনুশোচনা তৈরি হয়।অন্যের জিনিস বলতে শুধু দামি সম্পদ বোঝায় না। কারও টিস্যু, টুথপেস্ট, তোয়ালে, গামছা, লোশন, তেল, শ্যাম্পু, সাবান, পারফিউম কিংবা ফেসওয়াশও তার ব্যক্তিগত সম্পদ।অফিস, বাসা, ছাত্রাবাস কিংবা মেসে অনেক সময় এসব জিনিসকে সবাই ব্যবহারযোগ্য মনে করা হয়। কিন্তু মালিকের অনুমতি না থাকলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়।রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যের জিনিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমতির গুরুত্বের কথা বলেছেন। একটি হাদিসে এসেছে‘কোনো লোক এমন কাপড়ে হাত মোছবে না, যা তাকে দেওয়া হয়নি।’সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮২৭অর্থাৎ কোনো জিনিস অন্যের হলে সেটি ব্যবহারের আগে মালিকের সম্মতি থাকা প্রয়োজন।আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার বিষয়ে কঠোর সতর্ক করেছেন। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৬৬৫৯ নম্বর হাদিসে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা কসমের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।এ থেকে বোঝা যায়, অন্যের সম্পদের প্রতি সম্মান দেখানো ইসলামী নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আল্লাহ তাআলা বলেন‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৮তাই বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা একই ঘরে থাকার কারণে কারও ব্যক্তিগত জিনিস নিজের ইচ্ছামতো ব্যবহার করার অধিকার তৈরি হয় না।কারও জিনিস ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে আগে অনুমতি নেওয়া উচিত। মালিক নিজে অনুমতি দিলে তখন ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা থাকে না।বিশেষ করে এমন জিনিস, যা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অনুমতির বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।বন্ধুর জিনিস বলে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা, কিংবা ‘পরে বলে দেব’ এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। ছোট একটি টিস্যু বা সামান্য শ্যাম্পুর বিষয় মনে হলেও এর সঙ্গে অন্যের অধিকার জড়িত। অন্যের সম্পদ ও ব্যক্তিগত জিনিসের প্রতি সম্মান দেখানো এবং ব্যবহারের আগে অনুমতি নেওয়াই ইসলামী শিষ্টাচার ও নৈতিকতার দাবি।

অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহার কি জায়েজ?