থাইল্যান্ড ভেঙে নতুন মুসলিম রাষ্ট্র? বিআরএনের ঘোষণায় তোলপাড়
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)।ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি বলেন, তাদের স্বাধীনতার দাবি এখনও অপরিবর্তিত। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।বিআরএন ১৯৬০-এর দশক থেকে থাইল্যান্ডের মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি প্রদেশে স্বাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল পাতানি সালতানাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ২০০৪ সালের পর সেখানে সহিংসতা আরও তীব্র হয়।স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে সংঘাতের ঘটনায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন।বিআরএন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, থাই সরকারের কাছে তারা ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।বিআরএনের প্রস্তাবে শরিয়া আইন ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ওই ব্যবস্থা পরিচালনা এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা রয়েছে।তবে থাইল্যান্ড দেশ ভাগ বা বিআরএনের স্বাধীনতার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রধান আলোচক থানুত সুবর্ণানন্দ জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডকে ভাগ করার কোনো বিষয় আলোচনার টেবিলে নেই। তবে চেকপয়েন্ট কমানো ও যুদ্ধবিরতি অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলে আসছে। তবে গত জুলাইয়ে সন্দেহভাজন বিআরএন হামলায় পাঁচ থাই সেনা নিহত হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত করে ব্যাংকক।থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামাজিক উন্নয়ন ও শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রয়েছে।এদিকে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নরদিন জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার জন্য নতুন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কুয়ালালামপুর থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ আইনকে সম্মান করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিআরএনের পক্ষ থেকে আগামী অক্টোবরে থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘গোপন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়’ বসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।