ইরান-আমেরিকা আলোচনার মধ্যেই হরমুজে জাহাজে হামলা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলার মধ্যেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাত হেনেছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। ঘটনায় দুইজন হতাহত হয়েছেন বলে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাদের ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করেন। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ভাসতে থাকে।জাহাজে থাকা সব নাবিক ও কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় দুইজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সমুদ্রে তেল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় সেখানে যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।হামলার সময়ই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগ হয়। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আলোচনার একটি পর্ব শেষ হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা পরবর্তী যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন।ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে শর্তও জানানো হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক চাপ ও অবরোধ কমানো হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। হরমুজে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঘটনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় যুদ্ধের অবসান, নিষেধাজ্ঞা, সামুদ্রিক চলাচল এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতপার্থক্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
হরমুজে নতুন হামলার ঘটনা সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে আবারও সামনে এনেছে।