সুনামগঞ্জে ইমারত নির্মাণ কর্মী সংগঠনের সভায় হট্টগোল
সুনামগঞ্জে ইমারত নির্মাণ কর্মী কল্যাণ সংগঠনের সাধারণ সভায় বর্তমান কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের একাধিক সদস্য। তবে বর্তমান সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন দাবি করেছেন, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগার মিলনায়তনে সংগঠনের সাধারণ সভায় এ ঘটনা ঘটে। সভায় কমিটির বৈধতা, সমাজসেবা কার্যালয়ের নোটিশ ও দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তর্ক-বিতর্ক চলে। একপর্যায়ে কয়েকজন সদস্য হট্টগোল শুরু করলে সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিনিয়র সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।সংগঠনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কমিটি নিয়ে সদস্যদের অভিযোগের পর বিষয়টি শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জানানো হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে বর্তমান কমিটি বাতিল, সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা। তবে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।সাধারণ সভায় উপস্থিত এক সদস্য বলেন, অধিকাংশ সদস্য নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। সমাজসেবা কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।সুনামগঞ্জ শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগের পর তদন্ত করে কমিটি বাতিল এবং সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।অন্যদিকে, সংগঠনের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন সমাজসেবা কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার দাবি, সমাজসেবা কার্যালয় নোটিশ দিতে পারে, তবে কমিটি বাতিলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।তিনি বলেন, তিনি নিজেও কমিটিতে থাকতে চান না। তবে প্রায় ৪০০ সদস্যের সংগঠনের স্বার্থে সাধারণ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চান।কমিটির বৈধতার বিষয়ে জয়নাল আবেদীন বলেন, গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, সংগঠনের প্রায় ৯৫ শতাংশ সদস্য বর্তমান কমিটির পক্ষে রয়েছেন। তবে বিরোধী সদস্যদের পক্ষ থেকে এ দাবির সঙ্গে ভিন্নমত রয়েছে।সভাপতি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৪০০ সদস্যকে দুই দফায় টি-শার্ট দেওয়া হয়েছে এবং সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে নিয়মিত সভাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সাধারণ সভায় সংগঠনের সদস্য অদুদ মিয়া সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলাল সভা পরিচালনা করেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মূলত বর্তমান কমিটির বৈধতা, সমাজসেবা কার্যালয়ের তদন্ত ও নোটিশ, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় তর্ক-বিতর্কের পর সিনিয়র সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।