জাতিসংঘে ভাষণের বাইরে তারেক রহমানের ব্যস্ত কর্মসূচি
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েক দিন ধরে নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরের নর্থ ডেলিগেট লাউঞ্জে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রতিনিধিদলের প্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় নির্ধারণাধীন রয়েছে। একই দিনে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলজ-এমের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।বিকেলে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গেও পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।সন্ধ্যায় জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেবেন।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন।পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সল্যুশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিষয় গুরুত্ব পাবে।এদিন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।বিকেলে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। সেখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয় তুলে ধরার কথা রয়েছে।একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘হাই-লেভেল মিটিং টু অ্যাড্রেস দ্য এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটস পোজড বাই সি-লেভেল রাইজ’ শীর্ষক বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এরপর মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৫টায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। ভাষণের জন্য নির্ধারিত সময় ১৫ মিনিট। তবে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।ভাষণের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।ভাষণ শেষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।সফরের শেষ দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দফতরে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। একই দিনে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জেইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকের কথা রয়েছে।নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ইকে-২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার। ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।