বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার নজির নেই: আমান উল্লাহ আমান

দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেছেন, ইতিহাসে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তির ফিরে আসার নজির নেই। শেখ হাসিনাও দেশে ফিরতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন আমান উল্লাহ আমান।তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপি বিভিন্ন সময় দেশের সংকটে জনগণের পাশে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মসূচির উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল খননসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, শহীদ জিহাদ ও ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে।বর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে আমান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এ সময় দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। কৃষক, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আমান উল্লাহ আমান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানুষের কথা বলার অধিকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তি আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছে। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নজির ইতিহাসে নেই এমন মন্তব্যের পাশাপাশি বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন তিনি। আমানের এ ধরনের বক্তব্যের অনুরূপ মন্তব্য তিনি এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে আমান বলেন, ওই সময় মানুষ যেভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, একইভাবে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।বিএনপির নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানতে বা পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে।তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমান বলেন, অপরাধে জড়িত কাউকে দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফুসহ মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার নজির নেই: আমান উল্লাহ আমান