আখাউড়া রেলস্টেশনে বৈধ ক্যান্টিন নির্মাণে বাধার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদন নিয়ে ক্যান্টিন নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন এক উদ্যোক্তা। তার দাবি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বরাদ্দের পর ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান বুঝিয়ে দেওয়া হলেও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর বাধার কারণে নির্মাণকাজ শুরু করতে সমস্যা হচ্ছে।অভিযোগকারী জানান, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য স্থান বুঝিয়ে দিতে স্টেশন মাস্টারকে নির্দেশনা দেয়।পরে স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে জিআরপি পুলিশের ওসি কুদ্দুস এবং টিআই শাহজাহান পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে নির্ধারিত জায়গাটি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় রেলওয়ের অনুমোদন ছাড়াই অটোরিকশা, সিএনজি ও বিভিন্ন খাবারের দোকান পরিচালনার কার্যক্রম চলে আসছে। এসব কার্যক্রমের কারণে স্টেশনের পরিবেশ ও চলাচলের জায়গা নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগকারীর দাবি, তার বরাদ্দকৃত স্থানে ক্যান্টিন নির্মাণ হলে অননুমোদিত দোকান ও যানবাহন রাখার সুযোগ কমে যাবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি তার ক্যান্টিন নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও দাবি করেন, ক্যান্টিনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অর্থ তিনি ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন। তবে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সমর্থন নিয়ে কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করেন।এদিকে, ক্যান্টিন নির্মাণের বিরোধিতায় আখাউড়া শহরে মাইকিং করে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার আশঙ্কা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল বা স্থান পরিবর্তনের দাবি জানানো হতে পারে।অভিযোগকারী বলেন, সরকারি অনুমোদন নিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যান্টিন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় বিরোধিতার কারণে তিনি হতাশ। তিনি বিষয়টি প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।নিজের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের আদলে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজ দেশে রেলওয়ের অনুমোদিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিএনজি চালক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।