রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সারের ডিলারশিপে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রস্তাবের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের মানববন্ধন

সারের ডিলারশিপে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রস্তাবের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের মানববন্ধন
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সারের ইউনিট ডিলার নিয়োগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রস্তাব এবং বিএনপির সার ব্যবসায়ী আবেদনকারীর নাম প্রস্তাব না করার অভিযোগে মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নোয়াহাটি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন,উপজেলার  শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শাহপরান ট্রেডার্সের মালিক বিল্লাল হোসেন এবং শাহপুর বাজারের মিম ট্রেডার্সের মালিক আওয়ামীলীগ পন্থী লিটন মিয়ার নাম সারের ইউনিট ডিলার হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। বক্তাদের দাবি, ওই দুই ব্যবসায়ীর গুদামসংক্রান্ত নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিট ডিলার হওয়ার জন্য নির্ধারিত ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকার শর্ত রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ না হলেও কৃষি অফিসের মাধ্যমে ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে, তানিম ট্রেডার্সের মালিক ও যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্দুর নূর অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জিএম সরফরাজের কাছে তিনি সারের ইউনিট ডিলারের জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেন। তবে তার আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুর নূরের দাবি, মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তার বিষয়ে একটি ‘ভুয়া প্রতিবেদন’ দাখিল করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি। আবেদন প্রক্রিয়ায় তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রস্তাব বঞ্চিত আব্দুর নূর বলেন, “আমি ইউনিট ডিলারের আবেদনের সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেছি। এরপরও আমার আবেদন প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শাহজাহানপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন খান, মাধবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার মিয়া, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রিপন মিয়া এবং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো দোষ নেই। সবকিছু কমিটির সভাপতি ও ইউএনও প্রস্তাব করেছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি নই।”

মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সার ডিলার প্রস্তাবের বিষয়টি উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকারের মাধ্যমে এবং তাঁর পরামর্শে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, “বিএনপির সার ব্যবসায়ীর কারও ফাইল গায়েব হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিল করা হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

চেকপোস্ট

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সারের ডিলারশিপে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রস্তাবের অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে সারের ইউনিট ডিলার নিয়োগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রস্তাব এবং বিএনপির সার ব্যবসায়ী আবেদনকারীর নাম প্রস্তাব না করার অভিযোগে মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস ও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নোয়াহাটি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন,উপজেলার  শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শাহপরান ট্রেডার্সের মালিক বিল্লাল হোসেন এবং শাহপুর বাজারের মিম ট্রেডার্সের মালিক আওয়ামীলীগ পন্থী লিটন মিয়ার নাম সারের ইউনিট ডিলার হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। বক্তাদের দাবি, ওই দুই ব্যবসায়ীর গুদামসংক্রান্ত নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিট ডিলার হওয়ার জন্য নির্ধারিত ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকার শর্ত রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ না হলেও কৃষি অফিসের মাধ্যমে ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে, তানিম ট্রেডার্সের মালিক ও যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্দুর নূর অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জিএম সরফরাজের কাছে তিনি সারের ইউনিট ডিলারের জন্য নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেন। তবে তার আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুর নূরের দাবি, মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তার বিষয়ে একটি ‘ভুয়া প্রতিবেদন’ দাখিল করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে তার নাম প্রস্তাব করা হয়নি। আবেদন প্রক্রিয়ায় তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রস্তাব বঞ্চিত আব্দুর নূর বলেন, “আমি ইউনিট ডিলারের আবেদনের সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করেছি। এরপরও আমার আবেদন প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শাহজাহানপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন খান, মাধবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার মিয়া, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক রিপন মিয়া এবং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো দোষ নেই। সবকিছু কমিটির সভাপতি ও ইউএনও প্রস্তাব করেছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি নই।”

মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সার ডিলার প্রস্তাবের বিষয়টি উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকারের মাধ্যমে এবং তাঁর পরামর্শে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, “বিএনপির সার ব্যবসায়ীর কারও ফাইল গায়েব হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিল করা হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত