শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

জলবায়ু তহবিল নিশ্চিতের আহ্বান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব
জাতিসংঘ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি কনফারেন্স রুম-৪-এ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করছে। বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ রাষ্ট্রের জন্য এ সংকট আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিশেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করেন। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে এবং প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কাজ করছে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়ন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প আধুনিকায়নে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় তারেক রহমানের প্রস্তাবগুলো হলো

১. দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে।
২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
৩. জলবায়ু প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জলবায়ু উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। জাতিসংঘও ২৪ সেপ্টেম্বরের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের লক্ষ্য হিসেবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় সমন্বিত ও অর্থায়ন-সমর্থিত কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। 

#তারেকরহমান #জলবায়ুপরিবর্তন #সমুদ্রপৃষ্ঠেরউচ্চতা

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও এর ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি কনফারেন্স রুম-৪-এ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করছে। বাংলাদেশের মতো বদ্বীপ রাষ্ট্রের জন্য এ সংকট আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিশেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করেন। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে এবং প্রায় এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কাজ করছে। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়ন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প আধুনিকায়নে মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ গ্রিন গ্রোথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় তারেক রহমানের প্রস্তাবগুলো হলো

১. দ্রুত ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে।
২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য যথাযথ তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।
৩. জলবায়ু প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. জলবায়ু উদ্বাস্তুদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। জাতিসংঘও ২৪ সেপ্টেম্বরের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের লক্ষ্য হিসেবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় সমন্বিত ও অর্থায়ন-সমর্থিত কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। 


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত