হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রান্নার অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। সংকটের সুযোগে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ বর্তমানে চাহিদার তুলনায় কম। বসুন্ধরা, ওমেরা ও বিএম এলপিজির নিয়োগকৃত তাসমেকো এনার্জি লিমিটেডের সরবরাহও চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। এর আওতায় আনুমানিক ২৫ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। এছাড়া ওমেরার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে যমুনা, স্পেকট্রাম ও ইউনি গ্যাসের নিয়োগকৃত কে.এস.এন. এনার্জি এলপিজি লিমিটেডের সরবরাহও চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় আনুমানিক ৩০০ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। ইউনি গ্যাসের একটি ডিলারের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি না পেয়ে অনেক ক্রেতাকে ফেরত দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাজারে গিয়েও মিলছে না গ্যাস
সরেজমিনে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম চাইছেন। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটছেন গ্রাহকরা।
পুরানবাজারের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার বলেন, “তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও গ্যাস পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালিয়ে এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।”
কামাল মিয়া নামে আরেক গ্রাহক বলেন, “আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে।”
সরবরাহ কমার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি ও ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে লোকসান হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
দাউদনগর বাজারের কাশেম এন্টারপ্রাইজের মালিক শিবলু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গত ১২ দিনে মাত্র একটি গাড়ি সিলিন্ডার এসেছে। অথচ ৩ থেকে ৪টি গাড়ি আসার কথা ছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান উপজেলার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে অভিযান দাবি
এলপিজির সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গতকাল হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং হয়েছে। এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নজরদারি করছে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রান্নার অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। সংকটের সুযোগে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ বর্তমানে চাহিদার তুলনায় কম। বসুন্ধরা, ওমেরা ও বিএম এলপিজির নিয়োগকৃত তাসমেকো এনার্জি লিমিটেডের সরবরাহও চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। এর আওতায় আনুমানিক ২৫ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। এছাড়া ওমেরার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে যমুনা, স্পেকট্রাম ও ইউনি গ্যাসের নিয়োগকৃত কে.এস.এন. এনার্জি এলপিজি লিমিটেডের সরবরাহও চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় আনুমানিক ৩০০ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। ইউনি গ্যাসের একটি ডিলারের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি না পেয়ে অনেক ক্রেতাকে ফেরত দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাজারে গিয়েও মিলছে না গ্যাস
সরেজমিনে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম চাইছেন। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটছেন গ্রাহকরা।
পুরানবাজারের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার বলেন, “তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও গ্যাস পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালিয়ে এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।”
কামাল মিয়া নামে আরেক গ্রাহক বলেন, “আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে।”
সরবরাহ কমার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি ও ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে লোকসান হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
দাউদনগর বাজারের কাশেম এন্টারপ্রাইজের মালিক শিবলু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গত ১২ দিনে মাত্র একটি গাড়ি সিলিন্ডার এসেছে। অথচ ৩ থেকে ৪টি গাড়ি আসার কথা ছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার দিচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান উপজেলার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে অভিযান দাবি
এলপিজির সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গতকাল হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং হয়েছে। এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নজরদারি করছে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
