বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নদীসহ বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন

বিষাদের সুরে নাসিরনগরে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব, ১৪২ মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন

বিষাদের সুরে নাসিরনগরে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব, ১৪২ মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন
ছবি : চেকপোস্ট

‘আসছে বছর আবার হবে’ ভক্তদের এমন আকুতি, ঢাকের বিদায়ী সুর, শঙ্খধ্বনি ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

দশমীর সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা। এ সময় বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে স্বামী-সন্তানের মঙ্গল ও পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন।

দুপুরের পর কাঁসর-ঘণ্টা ও ঢাকঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনের আয়োজন। ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা ছুটে যান নির্ধারিত বিসর্জন ঘাটের দিকে। এ সময় অনেক ভক্তকে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানাতে দেখা যায়।

নাসিরনগরে ১৪২ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাসিরনগরে মোট ১৪২টি সার্বজনীন ও পারিবারিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে ছিল আলোকসজ্জা, প্রতিমার নান্দনিক কারুকার্য ও দর্শনার্থীদের ভিড়।

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বলভদ্র নদী, লংগন নদী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্ধারিত পুকুরপাড়ে মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিসর্জন ঘাটগুলোতে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রার্থনা করেন।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমী অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে ভক্তরা শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, “এ বছর নাসিরনগরে ১৪২টি মণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, পূজা কমিটি ও সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি স্থায়ী মন্দির ছাড়া প্রায় সব প্রতিমাই সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।”

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, পূজা উদযাপনে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।

বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা।

#নাসিরনগর #দুর্গাপূজা #প্রতিমাবিসর্জন

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


বিষাদের সুরে নাসিরনগরে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব, ১৪২ মণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জন

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‘আসছে বছর আবার হবে’ ভক্তদের এমন আকুতি, ঢাকের বিদায়ী সুর, শঙ্খধ্বনি ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) শুভ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।


দশমীর সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন শেষে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা। এ সময় বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে স্বামী-সন্তানের মঙ্গল ও পরিবারের কল্যাণ কামনা করেন।


দুপুরের পর কাঁসর-ঘণ্টা ও ঢাকঢোলের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনের আয়োজন। ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা ছুটে যান নির্ধারিত বিসর্জন ঘাটের দিকে। এ সময় অনেক ভক্তকে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানাতে দেখা যায়।

নাসিরনগরে ১৪২ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাসিরনগরে মোট ১৪২টি সার্বজনীন ও পারিবারিক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে ছিল আলোকসজ্জা, প্রতিমার নান্দনিক কারুকার্য ও দর্শনার্থীদের ভিড়।


প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বলভদ্র নদী, লংগন নদী এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্ধারিত পুকুরপাড়ে মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিসর্জন ঘাটগুলোতে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়। ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রার্থনা করেন।


হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমী অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে ভক্তরা শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।


নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, “এ বছর নাসিরনগরে ১৪২টি মণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ, পূজা কমিটি ও সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি স্থায়ী মন্দির ছাড়া প্রায় সব প্রতিমাই সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।”


নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।


শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, পূজা উদযাপনে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।


বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তদের মনে রয়ে গেছে আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত