শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

অভিবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে শ্রমিকদের কাজের প্রতীকী দৃশ্য। ছবি : এআই জেনারেটেড

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে কর্মী পাঠানোর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ৩৩৮টি রিক্রুটিং ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তালিকাভুক্ত হচ্ছে ৩৩৮টি এজেন্সি

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

যেভাবে মালয়েশিয়া যাবেন কর্মীরা

মালয়েশিয়ার অনুমোদিত এজেন্সিগুলো চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচনের কাজ করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে।

মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব

সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করা হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ তালিকা চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে আপাতত মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানানো হয়েছে। তাই আবেদন শুরুর তারিখ, চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও কর্মী নির্বাচনের নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

#বাংলাদেশি_কর্মী #বিনা_খরচে_বিদেশযাত্রা #মালয়েশিয়ায়_চাকরি

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে কর্মী পাঠানোর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ৩৩৮টি রিক্রুটিং ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তালিকাভুক্ত হচ্ছে ৩৩৮টি এজেন্সি

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে এবং কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

যেভাবে মালয়েশিয়া যাবেন কর্মীরা

মালয়েশিয়ার অনুমোদিত এজেন্সিগুলো চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচনের কাজ করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে।

মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব

সরকার জানিয়েছে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা থেকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ ও সীমিত হয়ে যাওয়া বৈদেশিক শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়টি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করা হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এ তালিকা চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিন পরিদর্শনের পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে আপাতত মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানানো হয়েছে। তাই আবেদন শুরুর তারিখ, চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও কর্মী নির্বাচনের নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত