নিজের বৈধ জমির দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতেও সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আট মাসে দলিলের নকল বাবদ সরকারের রাজস্ব হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রাররা।
কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বোনের জমির দলিলের নকল তুলতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান গণমাধ্যমকর্মী খালেদ সিদ্দিকী। তার দাবি, সরকারি ফি ১ হাজার টাকা হলেও তার কাছে ২ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। পরে পরিচয় জানার পর ১ হাজার ৫০০ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। রসিদ চাওয়া নিয়ে পরে বাকবিতণ্ডাও হয় বলে জানান তিনি।
তাদের দাবি, এর আগেও জমির দলিলের নকল তুলতে একই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে। সরকারি ফির বাইরে নেওয়া অর্থের কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া শেরপুর ও শিবগঞ্জে একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য কয়েকটি কার্যালয়ে অন্তত ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল লেখক, নকলনবিশ ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মধ্যে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অলিখিত ‘রেট’ চালু রয়েছে।
বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।
অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন কার্যালয়ের কথিত অতিরিক্ত আদায়ের হার ও নকল উত্তোলনের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে।
তবে এই হিসাবটি অভিযোগভিত্তিক অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল করিম বলেন, দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে প্রতিটি খাতে সরকারি ফি নির্ধারিত রয়েছে। দলিল লেখকদের জন্যও নির্ধারিত সম্মানী রয়েছে। এর বাইরে কোনো অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।
ফলে সরকারি ফি ও কথিত অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজের বৈধ জমির দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতেও সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আট মাসে দলিলের নকল বাবদ সরকারের রাজস্ব হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রাররা।
কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বোনের জমির দলিলের নকল তুলতে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান গণমাধ্যমকর্মী খালেদ সিদ্দিকী। তার দাবি, সরকারি ফি ১ হাজার টাকা হলেও তার কাছে ২ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া হয়। পরে পরিচয় জানার পর ১ হাজার ৫০০ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। রসিদ চাওয়া নিয়ে পরে বাকবিতণ্ডাও হয় বলে জানান তিনি।
তাদের দাবি, এর আগেও জমির দলিলের নকল তুলতে একই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছে। সরকারি ফির বাইরে নেওয়া অর্থের কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া শেরপুর ও শিবগঞ্জে একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং অন্যান্য কয়েকটি কার্যালয়ে অন্তত ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল লেখক, নকলনবিশ ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মধ্যে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অলিখিত ‘রেট’ চালু রয়েছে।
বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।
অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন কার্যালয়ের কথিত অতিরিক্ত আদায়ের হার ও নকল উত্তোলনের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে।
তবে এই হিসাবটি অভিযোগভিত্তিক অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক অভিযোগ করেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলোতে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল করিম বলেন, দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে প্রতিটি খাতে সরকারি ফি নির্ধারিত রয়েছে। দলিল লেখকদের জন্যও নির্ধারিত সম্মানী রয়েছে। এর বাইরে কোনো অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।
ফলে সরকারি ফি ও কথিত অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
