বিশ্ব ফুটবলের দুই শীর্ষ সংস্থা ফিফা ও উয়েফার বিরোধ এবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে গড়িয়েছে। উয়েফার আইনি আবেদনের জবাবে ফিফা অভিযোগ করেছে, তাদের ও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে ‘ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিফা দাবি করেছে, এই আইনি পদক্ষেপ আসন্ন সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জুলাইয়ে ব্যাপক বিরোধিতার পর পরিকল্পনাটি বাতিল করে ফিফা।
গত মাসে উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের কাছে ফিফার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায়। উয়েফার আদালত-আবেদনে বলা হয়, এসব তথ্য সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনো ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হতে পারে।
সোমবার আদালতে দেওয়া জবাবে ফিফা উয়েফার বক্তব্যের বিরোধিতা করে। ফিফার দাবি, উয়েফার আবেদনে ফিফা ও ইনফান্তিনোকে নিয়ে অনেক ‘মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য রয়েছে। ফিফা আরও বলেছে, এফএফই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হতো এবং প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটিও ফিফার তত্ত্বাবধানে থাকার কথা ছিল।
অন্যদিকে উয়েফার অভিযোগ, এফএফই পরিকল্পনাটি সীমিতসংখ্যক উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে গোপনে তৈরি করা হয়েছিল এবং ফিফা কাউন্সিল, আঞ্চলিক কনফেডারেশন ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি। উয়েফার নথি অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এফএফইর অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন নিয়েও দুই পক্ষের মতবিরোধ রয়েছে। উয়েফার হিসাবে এফএফইর মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল। ফিফার দাবি, এটি ছিল ইকুইটি মূল্য; প্রতিষ্ঠানের মোট ‘এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু’ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।
এফএফই পরিকল্পনা বাতিলের পর ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
আগামী মার্চ ২০২৭-এ ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। ফিফা আদালতে দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে উয়েফার আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উয়েফা সর্বশেষ এই অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের দুই শীর্ষ সংস্থা ফিফা ও উয়েফার বিরোধ এবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে গড়িয়েছে। উয়েফার আইনি আবেদনের জবাবে ফিফা অভিযোগ করেছে, তাদের ও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে ‘ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফিফা দাবি করেছে, এই আইনি পদক্ষেপ আসন্ন সভাপতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়া ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জুলাইয়ে ব্যাপক বিরোধিতার পর পরিকল্পনাটি বাতিল করে ফিফা।
গত মাসে উয়েফা যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের কাছে ফিফার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নথি ও সাক্ষ্য সংগ্রহের অনুমতি চায়। উয়েফার আদালত-আবেদনে বলা হয়, এসব তথ্য সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনো ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হতে পারে।
সোমবার আদালতে দেওয়া জবাবে ফিফা উয়েফার বক্তব্যের বিরোধিতা করে। ফিফার দাবি, উয়েফার আবেদনে ফিফা ও ইনফান্তিনোকে নিয়ে অনেক ‘মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য রয়েছে। ফিফা আরও বলেছে, এফএফই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হতো এবং প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটিও ফিফার তত্ত্বাবধানে থাকার কথা ছিল।
অন্যদিকে উয়েফার অভিযোগ, এফএফই পরিকল্পনাটি সীমিতসংখ্যক উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে গোপনে তৈরি করা হয়েছিল এবং ফিফা কাউন্সিল, আঞ্চলিক কনফেডারেশন ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি। উয়েফার নথি অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এফএফইর অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন নিয়েও দুই পক্ষের মতবিরোধ রয়েছে। উয়েফার হিসাবে এফএফইর মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল। ফিফার দাবি, এটি ছিল ইকুইটি মূল্য; প্রতিষ্ঠানের মোট ‘এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু’ ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।
এফএফই পরিকল্পনা বাতিলের পর ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে আরও আলোচনা শুরু হয়। উয়েফার পাশাপাশি কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল।
আগামী মার্চ ২০২৭-এ ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। ফিফা আদালতে দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে উয়েফার আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উয়েফা সর্বশেষ এই অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
