মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ফল প্রকাশে দেরি, ভোগান্তিতে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা

ফল প্রকাশে দেরি, ভোগান্তিতে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এতে রি-অ্যাডমিশন, পরবর্তী সেমিস্টারের একাডেমিক পরিকল্পনা এবং উচ্চশিক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

গত ১২ মে প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হলেও অনেক বিভাগের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে

ফলে রি-অ্যাডমিশনের সম্ভাবনায় থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বাড়তি সমস্যায়। আগের সেমিস্টারের ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নতুন সেমিস্টারে দুই মাসের ক্লাসে অংশ নেওয়াও সময় অপচয়ের কারণ হতে পারে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়া বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ শেষ করার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ফলাফল না পাওয়ায় তাদের আবেদন প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজরানা মেহনাজ দিবা বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপে আবেদনের সময় গত সেমিস্টারের ফলাফল সংযুক্ত করতে হয়। কিন্তু জুনে শেষ হওয়া পরীক্ষার ফল এখনো না পাওয়ায় তাদের উচ্চশিক্ষায় আবেদনে বিলম্ব হচ্ছে।

রি-অ্যাডমিশনের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, অনেক সহপাঠীর একাধিক বিষয়ে রিটেক রয়েছে এবং তারা বর্তমানে ইন্টার্নশিপের শেষ পর্যায়ে। ফল প্রকাশের পর রি-অ্যাডমিশনের প্রয়োজন হলে তারা চরম মানসিক চাপে পড়বেন। তাই দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় বলেন, নতুন সেমিস্টারের ক্লাস প্রায় দুই মাস ধরে চললেও আগের সেমিস্টারের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন সেমিস্টারের পড়াশোনার পরিকল্পনা করতেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।

অন্যদিকে, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানান, কারিকুলাম অনুযায়ী সেমিস্টার ফাইনালের এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

তবে ফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল হক বিভাগগুলোর কাছ থেকে ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫১তম ব্যাচের সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। ৫০তম ব্যাচেরও সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশের কাজ চলছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্য ব্যাচগুলোর ফল প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ভাষ্য, প্রতিটি বিভাগকে ফল জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভাগগুলো সময়মতো ফলাফল জমা না দেওয়ায় প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রিটেক ক্লিয়ার করার বিষয়টি ফলাফলের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারিত সময়ে ফল জমা দিলে যথাসময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

#বুটেক্স #শিক্ষার্থীভোগান্তি #ফলাফলপ্রকাশ

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফল প্রকাশে দেরি, ভোগান্তিতে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এতে রি-অ্যাডমিশন, পরবর্তী সেমিস্টারের একাডেমিক পরিকল্পনা এবং উচ্চশিক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

গত ১২ মে প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হলেও অনেক বিভাগের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে

ফলে রি-অ্যাডমিশনের সম্ভাবনায় থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বাড়তি সমস্যায়। আগের সেমিস্টারের ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নতুন সেমিস্টারে দুই মাসের ক্লাসে অংশ নেওয়াও সময় অপচয়ের কারণ হতে পারে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়া বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ শেষ করার পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ফলাফল না পাওয়ায় তাদের আবেদন প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজরানা মেহনাজ দিবা বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপে আবেদনের সময় গত সেমিস্টারের ফলাফল সংযুক্ত করতে হয়। কিন্তু জুনে শেষ হওয়া পরীক্ষার ফল এখনো না পাওয়ায় তাদের উচ্চশিক্ষায় আবেদনে বিলম্ব হচ্ছে।

রি-অ্যাডমিশনের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, অনেক সহপাঠীর একাধিক বিষয়ে রিটেক রয়েছে এবং তারা বর্তমানে ইন্টার্নশিপের শেষ পর্যায়ে। ফল প্রকাশের পর রি-অ্যাডমিশনের প্রয়োজন হলে তারা চরম মানসিক চাপে পড়বেন। তাই দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এম এম ফাহাদ জয় বলেন, নতুন সেমিস্টারের ক্লাস প্রায় দুই মাস ধরে চললেও আগের সেমিস্টারের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন সেমিস্টারের পড়াশোনার পরিকল্পনা করতেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।

অন্যদিকে, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানান, কারিকুলাম অনুযায়ী সেমিস্টার ফাইনালের এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

তবে ফল প্রকাশে বিলম্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল হক বিভাগগুলোর কাছ থেকে ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫১তম ব্যাচের সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। ৫০তম ব্যাচেরও সব বিভাগের ফলাফল প্রকাশের কাজ চলছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্য ব্যাচগুলোর ফল প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ভাষ্য, প্রতিটি বিভাগকে ফল জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভাগগুলো সময়মতো ফলাফল জমা না দেওয়ায় প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রিটেক ক্লিয়ার করার বিষয়টি ফলাফলের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নির্ধারিত সময়ে ফল জমা দিলে যথাসময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত