কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালীতে রাতের আঁধারে ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তিন শেয়ারদারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির আওতাধীন সাতডালিয়ার ৫ নম্বর লটারির বরাদ্দ ঘোনায় বসবাসরত কয়েকটি ঘরবাড়িতে একদল লোক হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সমিতির বয়োবৃদ্ধ সদস্য আক্তার হোসেন (৭০), রুকন উদ্দিন (৫০) ও তানভীর ইসলামকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং কী অবস্থায় রয়েছেন—এ নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বদরখালীর ১ নম্বর স্লুইসগেট নতুন ঘোনা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়ার প্রায় ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর লোকজন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বরাদ্দ ঘোনায় বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
সাতডালিয়া লটারির সভাপতি নাজেম উদ্দিনের দাবি, ১৯৯২ সালে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মাধ্যমে ৫ নম্বর লটারিতে সাতডালিয়া এলাকায় ২৪টি শেয়ার বরাদ্দ পান তারা। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জায়গা ভোগদখল করে আসছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মোহাম্মদ কালু ইট-কনক্রিট রাখার কথা বলে তাদের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য জায়গা ইজারা নেন। পরে সেখানে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। নতুন করে ইজারা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
নাজেম উদ্দিন আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয় এবং তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কালুকে বলা হয়েছিল। এরপর প্রায় তিন মাস আগে তারা সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে কয়েকজন সদস্যকে বসতি স্থাপন করান।
তার অভিযোগ, সোমবার রাতে কালুর নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং তিন সদস্যকে তুলে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার সমাধানের জন্য আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু রাতের আঁধারে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর কিংবা কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কোনো নিরীহ মানুষকে যেন হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম বলেন, তাদের প্রবীণ সদস্য আক্তার হোসেনসহ রুকন উদ্দিন ও তানভীর ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত তিনজনের অবস্থান নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় মাওলানা আবদুস সালামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাতডালিয়ার মানুষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। তার দাবি, এ ঘটনায় নিরীহ সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামলাকারীরা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে খবর পেয়ে লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে বক্তারা বলেন, ঘটনাটি শুধু জায়গা-জমি বিরোধ হিসেবে দেখলে চলবে না। এখানে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং মানুষকে তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান—ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালীতে রাতের আঁধারে ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তিন শেয়ারদারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির আওতাধীন সাতডালিয়ার ৫ নম্বর লটারির বরাদ্দ ঘোনায় বসবাসরত কয়েকটি ঘরবাড়িতে একদল লোক হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সমিতির বয়োবৃদ্ধ সদস্য আক্তার হোসেন (৭০), রুকন উদ্দিন (৫০) ও তানভীর ইসলামকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং কী অবস্থায় রয়েছেন—এ নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বদরখালীর ১ নম্বর স্লুইসগেট নতুন ঘোনা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়ার প্রায় ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর লোকজন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বরাদ্দ ঘোনায় বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জায়গা নিয়ে বিরোধের কারণে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
সাতডালিয়া লটারির সভাপতি নাজেম উদ্দিনের দাবি, ১৯৯২ সালে বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির মাধ্যমে ৫ নম্বর লটারিতে সাতডালিয়া এলাকায় ২৪টি শেয়ার বরাদ্দ পান তারা। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জায়গা ভোগদখল করে আসছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মোহাম্মদ কালু ইট-কনক্রিট রাখার কথা বলে তাদের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য জায়গা ইজারা নেন। পরে সেখানে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। নতুন করে ইজারা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
নাজেম উদ্দিন আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয় এবং তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কালুকে বলা হয়েছিল। এরপর প্রায় তিন মাস আগে তারা সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে কয়েকজন সদস্যকে বসতি স্থাপন করান।
তার অভিযোগ, সোমবার রাতে কালুর নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং তিন সদস্যকে তুলে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার সমাধানের জন্য আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু রাতের আঁধারে হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর কিংবা কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
তাদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কোনো নিরীহ মানুষকে যেন হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম বলেন, তাদের প্রবীণ সদস্য আক্তার হোসেনসহ রুকন উদ্দিন ও তানভীর ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত তিনজনের অবস্থান নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় মাওলানা আবদুস সালামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাতডালিয়ার মানুষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। তার দাবি, এ ঘটনায় নিরীহ সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামলাকারীরা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে খবর পেয়ে লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে বক্তারা বলেন, ঘটনাটি শুধু জায়গা-জমি বিরোধ হিসেবে দেখলে চলবে না। এখানে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং মানুষকে তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান—ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
