যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা বাসে চড়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই অভাব আর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পাঠশালায় যেতে হয় তাদের। তবে কষ্ট যতই হোক, লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানেনি তাদের স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্নের পথে নতুন গতি এনে দিয়েছে দুটি চাকার সাইকেল।
খানাবাড়ি গালর্স হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী লামিয়া খাতুন। যোগীপোলের বাড়ি থেকে তার স্কুলের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। বাবা মো: ইলিয়াস দেওয়ান পেশায় একজন ভ্যানচালক। প্রতিদিন মেয়ের যাতায়াতে ৫০ টাকার বেশি খরচ বহন করা পরিবারের জন্য কষ্টকর হলেও মেয়ের পড়াশোনার আগ্রহের কারণে নিজের কষ্টার্জিত আয় থেকে সেই ব্যয় বহন করছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, কেডিএ খানজাহানআলী সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সেলিনা শাবনাজ শিপা। বাবা চাকরিজীবী হলেও প্রতিদিন মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো না। ফলে মিরেরডাঙার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ কখনো কড়া রোদে পুড়ে, আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে পায়ে হেঁটেই স্কুলে যেতে হতো তাকে।
একই চিত্র খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড়ের মোঃ সাদরুল আলম ফাহামের। মঈনউদ্দীন হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কুরআন হেফজ করার পাশাপাশি দারুল মোকাররম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে সে। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে হয় এই কিশোরকে।
এমন নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটন জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া ৩০ জন অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রা সহজ করতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বাইসাইকেল। সাইকেলের দুই চাকায় যেন ডানা মেলেছে তাদের শিক্ষার স্বপ্ন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খালিশপুর প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলসের অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এই উপহার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, অভাব বা দূরত্বের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নের প্রদীপ যেন নিভে না যায়, ঝরে না পড়ে—সেজন্যই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলকে পুনর্গঠন করে আলোর মুখে ফেরানোর দায়িত্ব আগামী দিনে শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত কারিকুলাম পরিবর্তন করে নতুন কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করে বেকার বসে থাকতে না হয়।
এসময় খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হুইপ শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও স্কুলের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা স ম আব্দুর রহমান, হাবিব বিশ্বাস, শেখ ইমাম হেসেন ও আবুল কালাম জিয়া প্রমুখ।
উপহারের সাইকেল হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মুখ। তাদের কাছে এই সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, বরং শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে বয়সে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা বাসে চড়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই অভাব আর প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পাঠশালায় যেতে হয় তাদের। তবে কষ্ট যতই হোক, লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানেনি তাদের স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্নের পথে নতুন গতি এনে দিয়েছে দুটি চাকার সাইকেল।
খানাবাড়ি গালর্স হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী লামিয়া খাতুন। যোগীপোলের বাড়ি থেকে তার স্কুলের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। বাবা মো: ইলিয়াস দেওয়ান পেশায় একজন ভ্যানচালক। প্রতিদিন মেয়ের যাতায়াতে ৫০ টাকার বেশি খরচ বহন করা পরিবারের জন্য কষ্টকর হলেও মেয়ের পড়াশোনার আগ্রহের কারণে নিজের কষ্টার্জিত আয় থেকে সেই ব্যয় বহন করছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, কেডিএ খানজাহানআলী সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সেলিনা শাবনাজ শিপা। বাবা চাকরিজীবী হলেও প্রতিদিন মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো না। ফলে মিরেরডাঙার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ কখনো কড়া রোদে পুড়ে, আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে পায়ে হেঁটেই স্কুলে যেতে হতো তাকে।
একই চিত্র খালিশপুর বঙ্গবাসী মোড়ের মোঃ সাদরুল আলম ফাহামের। মঈনউদ্দীন হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কুরআন হেফজ করার পাশাপাশি দারুল মোকাররম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে সে। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে হয় এই কিশোরকে।
এমন নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটন জয় করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া ৩০ জন অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রা সহজ করতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন বাইসাইকেল। সাইকেলের দুই চাকায় যেন ডানা মেলেছে তাদের শিক্ষার স্বপ্ন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খালিশপুর প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলসের অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এই উপহার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, অভাব বা দূরত্বের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নের প্রদীপ যেন নিভে না যায়, ঝরে না পড়ে—সেজন্যই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলকে পুনর্গঠন করে আলোর মুখে ফেরানোর দায়িত্ব আগামী দিনে শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত কারিকুলাম পরিবর্তন করে নতুন কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করে বেকার বসে থাকতে না হয়।
এসময় খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হুইপ শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও স্কুলের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা স ম আব্দুর রহমান, হাবিব বিশ্বাস, শেখ ইমাম হেসেন ও আবুল কালাম জিয়া প্রমুখ।
উপহারের সাইকেল হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভেসে ওঠে অসচ্ছল পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মুখ। তাদের কাছে এই সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, বরং শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক।
