বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র অচল, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র অচল, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ
ছবি: চেকপোস্ট

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালুর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি মাছের বেচাকেনা। প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে কেন্দ্রটির বিশাল অবকাঠামো। এতে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অর্থের বিনিয়োগ কাজে আসছে না, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জন্য আধুনিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৬ নম্বর চরগাজী ইউনিয়নের জোড়পুকুর-বয়ারচর এলাকায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) উদ্যোগে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। মেঘনা নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মাছ বিক্রির সুবিধা, সুষ্ঠু বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্যেই নির্মিত হয় আধুনিক এই কেন্দ্র। তবে নির্মাণের পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি এর কার্যক্রম।

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, একশ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সরকারি এই অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি না করে আশপাশের বিভিন্ন ঘাট ও বাজারে নিজস্ব আড়ত গড়ে তুলেছেন। ফলে সরকারি কেন্দ্রটিতে মাছের বেচাকেনা শুরু হচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা না থাকায় পুরো অবকাঠামোই পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি কার্যত জনমানবহীন। নেই জেলে ও পাইকারদের আনাগোনা। নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় কেন্দ্রটির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয় জেলেদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে মাছ বিক্রির জন্য একটি সুশৃঙ্খল বাজার তৈরি হতো। পাশাপাশি জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পেতেন এবং মৎস্য ব্যবসায়ও গতিশীলতা আসত। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সরকারের এ উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

এ অবস্থায় দ্রুত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মাছের বেচাকেনা স্বাভাবিক করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

চেকপোস্ট

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রামগতি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র অচল, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারি উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালুর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি মাছের বেচাকেনা। প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে কেন্দ্রটির বিশাল অবকাঠামো। এতে একদিকে যেমন সরকারের বিপুল অর্থের বিনিয়োগ কাজে আসছে না, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের জন্য আধুনিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২১ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ৬ নম্বর চরগাজী ইউনিয়নের জোড়পুকুর-বয়ারচর এলাকায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) উদ্যোগে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। মেঘনা নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মাছ বিক্রির সুবিধা, সুষ্ঠু বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্যেই নির্মিত হয় আধুনিক এই কেন্দ্র। তবে নির্মাণের পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি এর কার্যক্রম।

স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, একশ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সরকারি এই অবতরণ কেন্দ্রে মাছ বিক্রি না করে আশপাশের বিভিন্ন ঘাট ও বাজারে নিজস্ব আড়ত গড়ে তুলেছেন। ফলে সরকারি কেন্দ্রটিতে মাছের বেচাকেনা শুরু হচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা না থাকায় পুরো অবকাঠামোই পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি কার্যত জনমানবহীন। নেই জেলে ও পাইকারদের আনাগোনা। নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় কেন্দ্রটির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয় জেলেদের মতে, কেন্দ্রটি চালু হলে মাছ বিক্রির জন্য একটি সুশৃঙ্খল বাজার তৈরি হতো। পাশাপাশি জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পেতেন এবং মৎস্য ব্যবসায়ও গতিশীলতা আসত। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সরকারের এ উদ্যোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

এ অবস্থায় দ্রুত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু, প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মাছের বেচাকেনা স্বাভাবিক করতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত