শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

নিখোঁজ নন, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন আরও ৬ জন

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাচার, যুদ্ধে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাচার, যুদ্ধে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচারের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে একটি মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।

নির্মাণশ্রমিকের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে রাজন হোসেন (২১) নামে এক তরুণকে নির্মাণকাজের কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, টানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে রাজনসহ প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তের কাজে তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ড্রোন হামলায় আহত হয়ে দেশে ফেরেন রাজন

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তাঁর দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে যায়। চার দিন কষ্ট করার পর তিনি হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন। পরে আহত অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন।

এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়।

২০ জনের মৃত্যুর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে আরও ৬ বাংলাদেশি

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির মাধ্যমে প্রায় ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন বলে জানানো হয়।

বাকি আটজনের মধ্যে দুজন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ঘটনাটি বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে মানব পাচার এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চাকরির প্রস্তাব যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বও এ ঘটনা সামনে এনেছে।

#বাংলাদেশি_প্রবাসী #মানবপাচার #রাশিয়া_ইউক্রেন_যুদ্ধ

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাচার, যুদ্ধে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচারের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে একটি মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান (৫৫) এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু তাহের লেন্টুকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।

নির্মাণশ্রমিকের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পারস্পরিক যোগসাজশে রাজন হোসেন (২১) নামে এক তরুণকে নির্মাণকাজের কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহা. আসাদুজ্জামান জানান, টানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে রাজনসহ প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তের কাজে তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ড্রোন হামলায় আহত হয়ে দেশে ফেরেন রাজন

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তাঁর দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে যায়। চার দিন কষ্ট করার পর তিনি হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন। পরে আহত অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন।

এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রাজনের পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজনের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়।

২০ জনের মৃত্যুর দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে আরও ৬ বাংলাদেশি

এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির মাধ্যমে প্রায় ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরেছেন বলে জানানো হয়।

বাকি আটজনের মধ্যে দুজন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ঘটনাটি বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে মানব পাচার এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চাকরির প্রস্তাব যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিদেশে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার গুরুত্বও এ ঘটনা সামনে এনেছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত