রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

তাৎক্ষণিক শনাক্ত হবে এডিস মশা

১২ হাজার টাকায় এআই প্রযুক্তির মশার ফাঁদ, ডেঙ্গু শনাক্তে নতুন উদ্যোগ

১২ হাজার টাকায় এআই প্রযুক্তির মশার ফাঁদ, ডেঙ্গু শনাক্তে নতুন উদ্যোগ
প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি ও বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ফাঁদ’ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষকরা। প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘MAST-CloudNet’ নামের যন্ত্রটি মশা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠাতে সক্ষম। গবেষকদের আশা, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই প্রযুক্তির গবেষণাপত্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী  আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে স্মার্ট ফাঁদ

যন্ত্রটি স্ত্রী এডিস মশার ডানার কৃত্রিম শব্দতরঙ্গ তৈরি করে পুরুষ এডিস মশাকে আকৃষ্ট করে। এরপর ভেতরে থাকা ফ্যানের সাহায্যে মশাগুলোকে একটি আঠালো কাগজে আটকে ফেলা হয়। ফাঁদের বিশেষ ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়। সেখানে এআই প্রযুক্তি ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে মশার প্রজাতি ও সংখ্যা শনাক্ত করে এবং ওয়েব ড্যাশবোর্ডে তথ্য পাঠায়।

কম খরচে তৈরি, ব্যাটারিতেও চলে

গবেষকদের তৈরি এই যন্ত্রটির নির্মাণব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। প্রচলিত আন্তর্জাতিক মশার ফাঁদের তুলনায় এটি সাশ্রয়ী বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যাটারির সাহায্যে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা চালানো যায় যন্ত্রটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টানা তিন দিনের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ঝোড়ো বৃষ্টির মধ্যেও এই ফাঁদে ৪৯টি এডিস মশা ধরা পড়ে।

২০২৭ সালে ঢাকায় বসানোর পরিকল্পনা

গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্মার্ট ফাঁদ স্থাপন করা হবে। এসব ফাঁদ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ডেঙ্গু ঝুঁকির একটি আগাম মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গবেষকদের মতে, এডিস মশার উপস্থিতি ও বিস্তারের তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেভাগে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই উদ্ভাবনের জন্য গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার সম্পর্কে আগেভাগে জানা গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

#ঢাবি #ডেঙ্গুপ্রতিরোধ #স্মার্টফাঁদ

চেকপোস্ট

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


১২ হাজার টাকায় এআই প্রযুক্তির মশার ফাঁদ, ডেঙ্গু শনাক্তে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি ও বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ফাঁদ’ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষকরা। প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘MAST-CloudNet’ নামের যন্ত্রটি মশা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠাতে সক্ষম। গবেষকদের আশা, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই প্রযুক্তির গবেষণাপত্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী  আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়েছে।

যেভাবে কাজ করবে স্মার্ট ফাঁদ

যন্ত্রটি স্ত্রী এডিস মশার ডানার কৃত্রিম শব্দতরঙ্গ তৈরি করে পুরুষ এডিস মশাকে আকৃষ্ট করে। এরপর ভেতরে থাকা ফ্যানের সাহায্যে মশাগুলোকে একটি আঠালো কাগজে আটকে ফেলা হয়। ফাঁদের বিশেষ ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়। সেখানে এআই প্রযুক্তি ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে মশার প্রজাতি ও সংখ্যা শনাক্ত করে এবং ওয়েব ড্যাশবোর্ডে তথ্য পাঠায়।

কম খরচে তৈরি, ব্যাটারিতেও চলে

গবেষকদের তৈরি এই যন্ত্রটির নির্মাণব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা। প্রচলিত আন্তর্জাতিক মশার ফাঁদের তুলনায় এটি সাশ্রয়ী বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও অভ্যন্তরীণ ব্যাটারির সাহায্যে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা চালানো যায় যন্ত্রটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টানা তিন দিনের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ঝোড়ো বৃষ্টির মধ্যেও এই ফাঁদে ৪৯টি এডিস মশা ধরা পড়ে।

২০২৭ সালে ঢাকায় বসানোর পরিকল্পনা

গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্মার্ট ফাঁদ স্থাপন করা হবে। এসব ফাঁদ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ডেঙ্গু ঝুঁকির একটি আগাম মানচিত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গবেষকদের মতে, এডিস মশার উপস্থিতি ও বিস্তারের তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগেভাগে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সম্ভাবনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই উদ্ভাবনের জন্য গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার সম্পর্কে আগেভাগে জানা গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত