বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের

সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউপি সচিবের অনিয়ম দূর্নীতি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউপি সচিবের অনিয়ম দূর্নীতি  তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি : চেকপোস্ট

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুল মুয়ীদ আলাল ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সরকারি রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টা, পৃথক রেজুলেশন বই তৈরি, অর্থ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

রাতের আঁধারে রেজুলেশন খাতা সরানোর অভিযোগ

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ অক্টোবর রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলাম গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদের তালা খুলে মূল রেজুলেশন খাতা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করেন এবং রেজুলেশন খাতাটি উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওতে গ্রাম পুলিশ মো. মানিক ইসলাম ইউপি সচিবের নির্দেশে রেজুলেশন বই নিতে আসার কথা স্বীকার করেছেন।

দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, মূল রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে পৃথক একটি রেজুলেশন বই তৈরি করা হয়। ওই রেজুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. হোসনে আরার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুল মুয়ীদ আলালের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অভিযোগকারীর

অভিযোগকারী আব্দুল মুয়ীদ আলাল বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি চুরির চেষ্টা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে তৈরি করা কথিত অবৈধ রেজুলেশন বাতিল এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলাম ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

তদন্তের পর নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া ভিডিও ফুটেজের লিংক, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য পর্যালোচনা ও যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে কমিটি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

#তদন্ত_কমিটি #সৈয়দপুরের_খবর #ইউপি_সচিবের_বিরুদ্ধে_অভিযোগ

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে কামারপুকুর ইউপি সচিবের অনিয়ম দূর্নীতি তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুল মুয়ীদ আলাল ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সরকারি রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টা, পৃথক রেজুলেশন বই তৈরি, অর্থ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

রাতের আঁধারে রেজুলেশন খাতা সরানোর অভিযোগ

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ অক্টোবর রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলাম গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদের তালা খুলে মূল রেজুলেশন খাতা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ও সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করেন এবং রেজুলেশন খাতাটি উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।


এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওতে গ্রাম পুলিশ মো. মানিক ইসলাম ইউপি সচিবের নির্দেশে রেজুলেশন বই নিতে আসার কথা স্বীকার করেছেন।

দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়, মূল রেজুলেশন খাতা সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে পৃথক একটি রেজুলেশন বই তৈরি করা হয়। ওই রেজুলেশনের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. হোসনে আরার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে।


এ ছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আব্দুল মুয়ীদ আলালের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল এবং প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অভিযোগকারীর

অভিযোগকারী আব্দুল মুয়ীদ আলাল বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি চুরির চেষ্টা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে তৈরি করা কথিত অবৈধ রেজুলেশন বাতিল এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি সচিব মোকসেদুল ইসলাম ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।

তদন্তের পর নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোকসেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া ভিডিও ফুটেজের লিংক, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য পর্যালোচনা ও যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করে কমিটি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত