সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

শিক্ষা

সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন ভেঙে কালো গাউনের গৌরব, বিজেএসে সফল কুবির নাজমুল

সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন ভেঙে কালো গাউনের গৌরব, বিজেএসে সফল কুবির নাজমুল
ছবি: নাজমুল হাসান

একসময় স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। সাদা অ্যাপ্রন গায়ে মানুষের সেবা করার সেই স্বপ্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলেই থেমে যায়। কিন্তু একটি ব্যর্থতাই যে জীবনের শেষ কথা নয়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অটুট বিশ্বাসকে সঙ্গী করে অবশেষে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন নাজমুল। তবে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে বিচারক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

সাফল্যের পথটি অবশ্য সহজ ছিল না। ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি তিনি। অনেকের মতো হতাশ হয়ে থেমে না গিয়ে আবারও প্রস্তুতি নেন। দ্বিতীয়বার ভাইভা বোর্ডে অংশ নিয়ে এবার আর খালি হাতে ফিরতে হয়নি। এসেছে বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন দুই শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর তালিকায় নিজের রোল নম্বর দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাজমুল। দিনের পর দিন ত্যাগ, নিরলস পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের যে পথ তিনি বেছে নিয়েছিলেন, সেই পথের গন্তব্যে পৌঁছানোর মুহূর্তটি ছিল তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। এছাড়ও চলতি বছর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, “প্রথমে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া। বাবা-মা ও পরিবারের সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়নের বিদ্যানগর গ্রামে নাজমুলের জন্ম। অষ্টজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি এবং শশীদল আলহাজ মুহাম্মদ আবু তাহের কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

নিজের এই অর্জনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব পরিবারকে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা, ভাই এবং স্ত্রী সবসময় আমাকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

ভবিষ্যৎ বিজেএস প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একাডেমিক জীবনে বিজেএস সিলেবাসভুক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে পড়তে হবে। নিজের মতো করে নোট তৈরি করলে লিখিত পরীক্ষায় অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।”

চেকপোস্ট

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন ভেঙে কালো গাউনের গৌরব, বিজেএসে সফল কুবির নাজমুল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

একসময় স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। সাদা অ্যাপ্রন গায়ে মানুষের সেবা করার সেই স্বপ্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলেই থেমে যায়। কিন্তু একটি ব্যর্থতাই যে জীবনের শেষ কথা নয়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অটুট বিশ্বাসকে সঙ্গী করে অবশেষে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

২০১৮ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন নাজমুল। তবে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে বিচারক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

সাফল্যের পথটি অবশ্য সহজ ছিল না। ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় ভাইভা পর্যন্ত গিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি তিনি। অনেকের মতো হতাশ হয়ে থেমে না গিয়ে আবারও প্রস্তুতি নেন। দ্বিতীয়বার ভাইভা বোর্ডে অংশ নিয়ে এবার আর খালি হাতে ফিরতে হয়নি। এসেছে বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দিন দুই শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর তালিকায় নিজের রোল নম্বর দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাজমুল। দিনের পর দিন ত্যাগ, নিরলস পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের যে পথ তিনি বেছে নিয়েছিলেন, সেই পথের গন্তব্যে পৌঁছানোর মুহূর্তটি ছিল তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। এছাড়ও চলতি বছর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাতেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, “প্রথমে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া। বাবা-মা ও পরিবারের সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়নের বিদ্যানগর গ্রামে নাজমুলের জন্ম। অষ্টজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি এবং শশীদল আলহাজ মুহাম্মদ আবু তাহের কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

নিজের এই অর্জনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব পরিবারকে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা, ভাই এবং স্ত্রী সবসময় আমাকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

ভবিষ্যৎ বিজেএস প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একাডেমিক জীবনে বিজেএস সিলেবাসভুক্ত বিষয়গুলো গভীরভাবে পড়তে হবে। নিজের মতো করে নোট তৈরি করলে লিখিত পরীক্ষায় অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়।”


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত