হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা থাকলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোপা আমন চাষের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সময়মতো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ায় জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণ সহজ হয়েছে। ফলে কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শেষ করতে পেরেছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা রোপা আমন চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত এবং ধানের চারা রোপণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিশাপট গ্রামের কৃষক মো. সহিব উল্লা বলেন, এবার ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সময়মতো রোপা আমন চাষ করতে পেরেছেন তিনি। নিজের কৃষিজমির পাশাপাশি পৌরসভার দাউদনগর গ্রামের সাহেববাড়ির আখলাক উদ্দিন মনসুর গংদের বেশ কিছু জমি বর্গাচাষি হিসেবে চাষাবাদ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবছরের মতো এবারও ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
তবে আশাব্যঞ্জক ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও পরিবেশদূষণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের। পৌরসভার দোকানপাট, বাসাবাড়ি ও অফিসের বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষ্কাশনের কারণে বড়চর মৌজার বড় বিল এলাকার অসংখ্য কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেনের রাসায়নিক মিশ্রিত দূষিত পানি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নুরপুর ইউনিয়নের আলগাপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, এখন পর্যন্ত রোপা আমন চাষে সারের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। তবে সরকারি উদ্যোগে সার ও বীজ না পাওয়ায় বাজারের খুচরা দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে এসব উপকরণ কিনতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধানের বাজারদর কম থাকায় এবং সার, কীটনাশক, বীজ ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকেরা তেমন লাভবান হতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক কৃষক হিমশিম খাচ্ছেন। বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে বাধ্য হয়ে এ পেশায় টিকে আছেন। সার, বীজ, কীটনাশক ও ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে সরকার আরও বেশি ভর্তুকি দিলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরাম হোসেন বলেন, সময়মতো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ায় রোপা আমন চাষের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিধান দেবনাথ এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুবায়ের আহমেদ, শামসুন্নাহার বেগম, ছানা উল্লা শামীম, মো. জাকির চৌধুরী ও শাহ আলম।
সব মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো চাষাবাদ সম্পন্ন হওয়ায় শায়েস্তাগঞ্জে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিজমিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা থাকলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রোপা আমন চাষের পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সময়মতো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ায় জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণ সহজ হয়েছে। ফলে কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শেষ করতে পেরেছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা রোপা আমন চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জমি প্রস্তুত এবং ধানের চারা রোপণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিশাপট গ্রামের কৃষক মো. সহিব উল্লা বলেন, এবার ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় সময়মতো রোপা আমন চাষ করতে পেরেছেন তিনি। নিজের কৃষিজমির পাশাপাশি পৌরসভার দাউদনগর গ্রামের সাহেববাড়ির আখলাক উদ্দিন মনসুর গংদের বেশ কিছু জমি বর্গাচাষি হিসেবে চাষাবাদ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবছরের মতো এবারও ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
তবে আশাব্যঞ্জক ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও পরিবেশদূষণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের। পৌরসভার দোকানপাট, বাসাবাড়ি ও অফিসের বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে এবং অপরিকল্পিতভাবে নিষ্কাশনের কারণে বড়চর মৌজার বড় বিল এলাকার অসংখ্য কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রেনের রাসায়নিক মিশ্রিত দূষিত পানি কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নুরপুর ইউনিয়নের আলগাপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মোতালিব বলেন, এখন পর্যন্ত রোপা আমন চাষে সারের কোনো সংকট দেখা দেয়নি। তবে সরকারি উদ্যোগে সার ও বীজ না পাওয়ায় বাজারের খুচরা দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে এসব উপকরণ কিনতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধানের বাজারদর কম থাকায় এবং সার, কীটনাশক, বীজ ও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকেরা তেমন লাভবান হতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক কৃষক হিমশিম খাচ্ছেন। বাপ-দাদার আমল থেকে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে বাধ্য হয়ে এ পেশায় টিকে আছেন। সার, বীজ, কীটনাশক ও ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে সরকার আরও বেশি ভর্তুকি দিলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরাম হোসেন বলেন, সময়মতো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ায় রোপা আমন চাষের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিধান দেবনাথ এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. জুবায়ের আহমেদ, শামসুন্নাহার বেগম, ছানা উল্লা শামীম, মো. জাকির চৌধুরী ও শাহ আলম।
সব মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো চাষাবাদ সম্পন্ন হওয়ায় শায়েস্তাগঞ্জে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিজমিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
