মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

লাখাইয়ে দীর্ঘদিন অননুমোদিত অনুপস্থিতি: ৩ প্রাথমিক শিক্ষককে বরখাস্তের চূড়ান্ত নোটিশ

লাখাইয়ে দীর্ঘদিন অননুমোদিত অনুপস্থিতি: ৩ প্রাথমিক শিক্ষককে বরখাস্তের চূড়ান্ত নোটিশ
ছবি: চেকপোস্ট

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দৈনিক প্রভাকর, জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক ও দি মুসলিম টাইমস পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন হাজী করীম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজীব কুমার দেব, চড়গাঁও (সংযুক্ত ভরপূর্ণী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ মনিরা আক্তার এবং তেঘরিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার। দীর্ঘদিন তাঁদের অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দীন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রনয় কান্তী মহালদারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে একই বিধিমালার ৭(৯) বিধি অনুযায়ী কেন তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে অথবা বিধিতে উল্লিখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নোটিশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দীন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং পড়াশোনার মান উন্নত ও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পদগুলো শূন্য হলে তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

তেঘরিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার ঋণের বোঝার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

একই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী আহমেদ বলেন, সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


লাখাইয়ে দীর্ঘদিন অননুমোদিত অনুপস্থিতি: ৩ প্রাথমিক শিক্ষককে বরখাস্তের চূড়ান্ত নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দৈনিক প্রভাকর, জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক ও দি মুসলিম টাইমস পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তিন শিক্ষক হলেন হাজী করীম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজীব কুমার দেব, চড়গাঁও (সংযুক্ত ভরপূর্ণী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাম্মৎ মনিরা আক্তার এবং তেঘরিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার। দীর্ঘদিন তাঁদের অননুমোদিত অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দীন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রনয় কান্তী মহালদারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুরুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে একই বিধিমালার ৭(৯) বিধি অনুযায়ী কেন তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে অথবা বিধিতে উল্লিখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নোটিশ জারি করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দীন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং পড়াশোনার মান উন্নত ও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পদগুলো শূন্য হলে তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

তেঘরিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আছমা আক্তার ঋণের বোঝার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

একই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী আহমেদ বলেন, সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত