রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

চিরনিদ্রায় তরুণ প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি

মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি
ছবি : চেকপোস্ট

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তরুণ শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মাটিধসে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শরিফুল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটিধসে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শরিফুল। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। সেই স্বপ্নে অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ের বদলে নিথর মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে শরিফুলের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অবশেষে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিন।

পরে শনিবার সকালে কফিনবন্দি মরদেহটি তার নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণির পরিবেশ। যে সন্তান পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরলেন নিথর দেহে।

পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকাল ১০টায় জানাজা শেষে শরিফুল ইসলাম ফকিরকে স্থানীয় বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শরিফুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এই তরুণের করুণ পরিণতিতে শোকাহত পুরো এলাকাবাসী।

#শরিফুলইসলাম #মালয়েশিয়ায়মাটিধস #প্রবাসীরমৃত্যু

চেকপোস্ট

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ফিরলেন কফিনবন্দি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তরুণ শরিফুল ইসলাম ফকির (২৬)। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে মাটিধসে প্রাণ হারিয়ে কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন শরিফুল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে মালয়েশিয়ার একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে কাজ করার সময় মাটিধসে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি। মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শরিফুল। জানিয়েছিলেন, কোরবানির ঈদের ছুটিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। সেই স্বপ্নে অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ের বদলে নিথর মরদেহ হয়ে ফিরতে হলো তাকে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে শরিফুলের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অবশেষে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় মালয়েশিয়ায় মাটিধসে নিহত শরিফুল ইসলামের মরদেহবাহী কফিন।

পরে শনিবার সকালে কফিনবন্দি মরদেহটি তার নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বর্ণিতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তেই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বর্ণির পরিবেশ। যে সন্তান পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই সন্তানই ফিরলেন নিথর দেহে।

পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকাল ১০টায় জানাজা শেষে শরিফুল ইসলাম ফকিরকে স্থানীয় বর্ণি পূর্বপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শরিফুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া এই তরুণের করুণ পরিণতিতে শোকাহত পুরো এলাকাবাসী।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত