ঢাকা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ

হবিগঞ্জে সাংবাদিক ফরহাদের ওপর হামলা ও ছিনতাই, থানায় জিডি

স্টাফ রিপোর্টার::
160

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও পরিক্রমা মাল্টিমিডিয়ার সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদ লাখাই উপজেলার রাঢ়িশাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমা ছাড়াও অনলাইন নন্দিত টিভির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক অনিয়ম, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই, অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে রাজিউড়া ইউনিয়নের মাদক কারবার, চোরাচালান ও নানা অনিয়ম নিয়ে তার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোয় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উচাইল চারিনাও গ্রামের মৃত তারা মিয়ার ছেলে ঝাড়ু মিয়া একজন পেশাদার গরু চোর। চোরাইকৃত গরু বাজারজাত করতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতালিব মিয়া—এমন অভিযোগও করা হয়। পাশাপাশি ওই ইউপি সদস্য শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কিনে বিক্রি করে আসছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মোতালিব মিয়া আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার দিন ৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭টায় সাংবাদিক ফরহাদ সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে অলিপুরের দিকে রওনা দেন। পথে উচাইল স্কুল বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ইউপি সদস্য মোতালিব মিয়া, ঝাড়ু মিয়া ও মৃত আক্রম আলীর ছেলে মিছির আলী তার পথরোধ করেন।

এরপর তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে নগদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদ বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার কারণেই আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
৫৯৫ বার পড়া হয়েছে

মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ মাটি ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ

হবিগঞ্জে সাংবাদিক ফরহাদের ওপর হামলা ও ছিনতাই, থানায় জিডি

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
160

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও পরিক্রমা মাল্টিমিডিয়ার সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদ লাখাই উপজেলার রাঢ়িশাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমা ছাড়াও অনলাইন নন্দিত টিভির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক অনিয়ম, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাই, অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে রাজিউড়া ইউনিয়নের মাদক কারবার, চোরাচালান ও নানা অনিয়ম নিয়ে তার প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোয় একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উচাইল চারিনাও গ্রামের মৃত তারা মিয়ার ছেলে ঝাড়ু মিয়া একজন পেশাদার গরু চোর। চোরাইকৃত গরু বাজারজাত করতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোতালিব মিয়া—এমন অভিযোগও করা হয়। পাশাপাশি ওই ইউপি সদস্য শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কিনে বিক্রি করে আসছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মোতালিব মিয়া আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।

ঘটনার দিন ৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭টায় সাংবাদিক ফরহাদ সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে অলিপুরের দিকে রওনা দেন। পথে উচাইল স্কুল বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ইউপি সদস্য মোতালিব মিয়া, ঝাড়ু মিয়া ও মৃত আক্রম আলীর ছেলে মিছির আলী তার পথরোধ করেন।

এরপর তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে নগদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সাংবাদিক শাহ মো. ফরহাদ বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং সমাজের অনিয়ম তুলে ধরার কারণেই আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”