ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে অফিস পরিচালনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির দাবি

নির্বাহী আদেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসায় অফিস, সাংবাদিক অবরুদ্ধ

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
106

রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত তিনদিনের শোক ও সাধারণ ছুটির দিনেও নির্বাহী আদেশ অমান্য করে অফিস পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে খুলনা ওয়াসার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার সারাদেশে শোক পালিত হয়। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ওইদিন ছিল সাধারণ ছুটি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই খুলনা ওয়াসা ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। এ সময় ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি, কালো পতাকা উত্তোলন বা কালো ব্যাজ ধারণও করা হয়নি।

বেলা ১১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে ওয়াসা ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় কর্মকর্তাদের কাছে ছুটির দিনে অফিস পরিচালনার কারণ জানতে চাইলে ডিএমডি ঝুমুর বালা বলেন, “সরকারি ছুটি থাকলেই কি সব কাজ বন্ধ থাকে?”-এমন মন্তব্য করেন বলে সাংবাদিকদের দাবি।

ঘটনার একপর্যায়ে একাওর টিভির রিপোর্টার রাজু হাওলাদার ভবনে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বাহী আদেশ লঙ্ঘন এবং সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওয়াসার একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে ছুটির দিনে অফিস করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার আনার তথ্যও উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “ছুটির দিনে অতিরিক্ত কাজ করায় সমস্যা নেই।” তবে শোক দিবসে অফিস পরিচালনার যৌক্তিকতা জানতে চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “সাধারণ ছুটির দিনে অফিস পরিচালনার আড়ালে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন।”

এদিকে একই দিনে খুলনার খালিশপুর বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি উপেক্ষা করে স্কুল খোলা এবং ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উভয় ঘটনায় প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য, শোক দিবসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
৫৫২ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে অফিস পরিচালনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির দাবি

নির্বাহী আদেশ উপেক্ষা করে খুলনা ওয়াসায় অফিস, সাংবাদিক অবরুদ্ধ

আপডেট সময় ০৬:২৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
106

রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত তিনদিনের শোক ও সাধারণ ছুটির দিনেও নির্বাহী আদেশ অমান্য করে অফিস পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে খুলনা ওয়াসার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (অর্থ ও প্রশাসন) ঝুমুর বালা ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার সারাদেশে শোক পালিত হয়। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ওইদিন ছিল সাধারণ ছুটি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই খুলনা ওয়াসা ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। এ সময় ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি, কালো পতাকা উত্তোলন বা কালো ব্যাজ ধারণও করা হয়নি।

বেলা ১১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে ওয়াসা ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময় কর্মকর্তাদের কাছে ছুটির দিনে অফিস পরিচালনার কারণ জানতে চাইলে ডিএমডি ঝুমুর বালা বলেন, “সরকারি ছুটি থাকলেই কি সব কাজ বন্ধ থাকে?”-এমন মন্তব্য করেন বলে সাংবাদিকদের দাবি।

ঘটনার একপর্যায়ে একাওর টিভির রিপোর্টার রাজু হাওলাদার ভবনে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীরা নির্বাহী আদেশ লঙ্ঘন এবং সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ওয়াসার একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় গোপনীয়তা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে ছুটির দিনে অফিস করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের জন্য বাইরে থেকে খাবার আনার তথ্যও উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, “ছুটির দিনে অতিরিক্ত কাজ করায় সমস্যা নেই।” তবে শোক দিবসে অফিস পরিচালনার যৌক্তিকতা জানতে চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “সাধারণ ছুটির দিনে অফিস পরিচালনার আড়ালে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন।”

এদিকে একই দিনে খুলনার খালিশপুর বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি উপেক্ষা করে স্কুল খোলা এবং ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উভয় ঘটনায় প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য, শোক দিবসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।