ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ, ঝাজে পুড়ছে ক্রেতাদের পকেট

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::

ছবি: সংগৃহীত

41

খুলনায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ হয়ে কেজিপ্রতি ৪১০-৪৫০ টাকাতে পৌঁছেছে। আমদানি বন্ধ, দুর্গাপূজা ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকা। কিন্তু এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ঝাল পণ্যটির বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ক্রেতারা বলছেন, এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের বাজেটকে চাপে ফেলেছে।

বিক্রেতারা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারত থেকে মরিচ আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি অবিরাম বৃষ্টিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মরিচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

খালিশপুর হাউজিং বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. কিবরিয়া বলেন, “ভারতীয় বর্ডার বন্ধ থাকায় বাজারে মরিচের সংকট। আজ মাত্র চার কেজি মরিচ কিনেছি। সোনাডাঙ্গা আড়ৎ থেকে মনপ্রতি ১৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী গোপলা বলেন, “আমদানি বন্ধ এবং বৃষ্টির কারণে মরিচ পচে যাচ্ছে। দাম এত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা কম কিনছেন, আমরাও আড়ৎ থেকে কম পরিমাণে তুলছি।”

মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সন্ধ্যা বাজারের ক্রেতা মো. নওয়াজ বলেন, “এক সপ্তাহে এভাবে দাম বাড়া মেনে নেওয়া যায় না। দাম বাড়ায় আগের তুলনায় অর্ধেক মরিচ কিনেছি।”

সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারের চরমোনাই বানিজ্য ভান্ডারের প্রোপাইটার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, “ভারতীয় এলসি বন্ধ থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আজ রাত থেকেই এলসি চালু হবে বলে আশা করছি। দুই দিনের মধ্যেই দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ দেশি মরিচ বিক্রি করেছি কেজি প্রতি ৩২০-৩৩০ টাকায় এবং ভারতীয় মরিচ ২৫০ টাকায়। অন্তত ১০০ বস্তা মরিচ বিক্রি করেছি। দাম কম থাকলে আরও বেশি বিক্রি করতে পারতাম।”

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, খরিপ-১ মৌসুমে খুলনা জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ফসল অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪২ হেক্টর জমির ফসল কর্তন করা হয়েছে এবং মোট ফলন হয়েছে ১,৩৪৯ মেট্রিক টন। শীতকালীন মৌসুমের জন্যও নতুন চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
৬০৫ বার পড়া হয়েছে

কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ, ঝাজে পুড়ছে ক্রেতাদের পকেট

আপডেট সময় ০৮:২৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
41

খুলনায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ হয়ে কেজিপ্রতি ৪১০-৪৫০ টাকাতে পৌঁছেছে। আমদানি বন্ধ, দুর্গাপূজা ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকা। কিন্তু এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ঝাল পণ্যটির বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। ক্রেতারা বলছেন, এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের বাজেটকে চাপে ফেলেছে।

বিক্রেতারা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারত থেকে মরিচ আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি অবিরাম বৃষ্টিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মরিচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

খালিশপুর হাউজিং বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. কিবরিয়া বলেন, “ভারতীয় বর্ডার বন্ধ থাকায় বাজারে মরিচের সংকট। আজ মাত্র চার কেজি মরিচ কিনেছি। সোনাডাঙ্গা আড়ৎ থেকে মনপ্রতি ১৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে।”

আরেক ব্যবসায়ী গোপলা বলেন, “আমদানি বন্ধ এবং বৃষ্টির কারণে মরিচ পচে যাচ্ছে। দাম এত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা কম কিনছেন, আমরাও আড়ৎ থেকে কম পরিমাণে তুলছি।”

মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সন্ধ্যা বাজারের ক্রেতা মো. নওয়াজ বলেন, “এক সপ্তাহে এভাবে দাম বাড়া মেনে নেওয়া যায় না। দাম বাড়ায় আগের তুলনায় অর্ধেক মরিচ কিনেছি।”

সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজারের চরমোনাই বানিজ্য ভান্ডারের প্রোপাইটার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, “ভারতীয় এলসি বন্ধ থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আজ রাত থেকেই এলসি চালু হবে বলে আশা করছি। দুই দিনের মধ্যেই দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ দেশি মরিচ বিক্রি করেছি কেজি প্রতি ৩২০-৩৩০ টাকায় এবং ভারতীয় মরিচ ২৫০ টাকায়। অন্তত ১০০ বস্তা মরিচ বিক্রি করেছি। দাম কম থাকলে আরও বেশি বিক্রি করতে পারতাম।”

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, খরিপ-১ মৌসুমে খুলনা জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ফসল অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪২ হেক্টর জমির ফসল কর্তন করা হয়েছে এবং মোট ফলন হয়েছে ১,৩৪৯ মেট্রিক টন। শীতকালীন মৌসুমের জন্যও নতুন চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।