ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত শেষ

চেকপোস্ট নিউজ::

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি। যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় অর্ধেক ফুরিয়ে গেছে। এছাড়া আরও ছয়টি বিশেষ ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিআইসিএস) বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অপারেশন এপিক ফিউরি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সিআইসিএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে তার মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নতমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষার প্রধান শক্তি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে। অত্যাধুনিক থাড ইন্টারসেপ্টর মজুতের অর্ধেকেরও বেশি খরচ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।

এছাড়াও নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের (পিআরএসএম) ৪৫ শতাংশেরই বেশি বর্তমানে ব্যবহৃত হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি’র আগের অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে ১ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে যুক্তরাষ্ট্রের। এই মজুতগুলো বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধে আরও যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হারিয়েছে তার একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে সিআইসিএস-এর প্রতিবেদেনে। তা হলো- এসএম-৩এস মানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। জেএএসএসএমএস ২০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আর এসএম-৬ ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত ১০ শতাংশের বেশি।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগেও আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত একটি বড় শক্তির (যেমন চীন) সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বর্তমানে এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র এখনও আছে, কিন্তু চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করার জন্য এই অবশিষ্ট মজুত যথেষ্ট নয়।

চলমান সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প উন্নত মানের সমরাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র চার গুণ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বড় অংকের বাজেট বরাদ্ধ দিয়েছেন ট্রাম্প। বাজেটের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পেন্টাগন সমরাস্ত্রের মজুত বাড়াতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আমেরিকার নৌ-শক্তির মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আমেরিকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত শেষ

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি। যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডার এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় অর্ধেক ফুরিয়ে গেছে। এছাড়া আরও ছয়টি বিশেষ ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক এন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিআইসিএস) বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অপারেশন এপিক ফিউরি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

সিআইসিএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে বর্তমানে যে পরিমাণ ঘাটতি দেখা দিয়েছে তার মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নতমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষার প্রধান শক্তি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে। অত্যাধুনিক থাড ইন্টারসেপ্টর মজুতের অর্ধেকেরও বেশি খরচ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।

এছাড়াও নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের (পিআরএসএম) ৪৫ শতাংশেরই বেশি বর্তমানে ব্যবহৃত হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি’র আগের অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে কমপক্ষে ১ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে যুক্তরাষ্ট্রের। এই মজুতগুলো বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান যুদ্ধে আরও যেসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত হারিয়েছে তার একটি হিসাব তুলে ধরা হয়েছে সিআইসিএস-এর প্রতিবেদেনে। তা হলো- এসএম-৩এস মানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। জেএএসএসএমএস ২০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আর এসএম-৬ ব্যবহৃত হয়েছে অন্তত ১০ শতাংশের বেশি।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগেও আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত একটি বড় শক্তির (যেমন চীন) সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বর্তমানে এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র এখনও আছে, কিন্তু চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মোকাবিলা করার জন্য এই অবশিষ্ট মজুত যথেষ্ট নয়।

চলমান সংঘাতের মধ্যে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্প উন্নত মানের সমরাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র চার গুণ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বড় অংকের বাজেট বরাদ্ধ দিয়েছেন ট্রাম্প। বাজেটের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পেন্টাগন সমরাস্ত্রের মজুত বাড়াতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আমেরিকার নৌ-শক্তির মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আমেরিকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।