ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলের নৈশ প্রহরী ছেলের ডিউটি করেন বাবা, বৈদ্যুতিক তার চুরি হলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি::

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বোতলাগাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। প্রায় ১৫ দিন পার হলেও এবিষয়ে থানায় জানানো হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও না জানিয়েই প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমত নতুন তার কিনে সংযোগ দিয়ে নিয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরী ছেলের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবা রাতে নামকাওয়াস্তে ডিউটি করার কারণেই এই চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রধান শিক্ষকের প্রশ্রয়েই নৈশ প্রহরী প্রতিনিয়তই নিজে ডিউটি না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বেতন ভাতা তুলছে। স্থানীয় হওয়ার সুযোগ নিয়ে সে অন্য কাজে নিয়োজিত থাকছে। এতে স্কুলটি রাতের বেলা মূলতঃ অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে। অথচ নৈশ প্রহরীর বেতন বাবদ সরকারি অর্থ ঠিকই ব্যয় হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন হলো বোতলাগাড়ী কালিতলা এলাকায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সহ একই চত্বরে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালি মন্দির ও পাশের কয়েকটি বসত বাড়িতে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কাউকেই বিষয়টা জানানো হয়নি।

এলাকাবাসির মতামত হলো একটা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ন্যুনতম হলেও দায়িত্বরত সভাপতি বা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো উচিত হলেও তা আড়াল করা হয়েছে। কারণ এতে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব অবহেলা তথা নিজের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাকে দিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টা প্রকাশ হয়ে পড়বে। আর এজন্য প্রধান শিক্ষকও ফেঁসে যাবেন। অথচ নৈশ প্রহরীর কাজে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা এলাকার সবার কাছে বড় প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মূলত: আওয়ামী লীগ আমলে স্থানীয় এক নেতা এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। প্রধান শিক্ষকও একই মতাদর্শের হওয়ায় দুজনে মিলে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় আওয়ামী ঘরানার জসির উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুককে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে নিয়োগের পর থেকেই বেশির ভাগ সময় ছেলের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাই রাতে স্কুলে থাকেন। আর ছেলে অন্য কাজ করেন। এই সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক মাসোহারা কমিশন নেন। যে কারণে চাকুরী বিধির এই অনিয়মকে দীর্ঘদিন থেকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে স্কুলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

নৈশ প্রহরী ওমর ফারুক মুঠোফোনে বলেন, খুটি থেকে মেইন সার্ভিস তার চুরি হয়নি। এক ভবন থেকে আরেক ভবনের সংযোগ তার চুরি করেছে চোরেরা। শুধু আমাদের নয় আশেপাশে চুরি হয়েছে। আমার স্ত্রী গর্ভবতী তাই বেশ কিছু দিন থেকে বাবা ডিউটি করে। সেরাতে বাবা ছিলেন। তবে তিনি শব্দ পেয়ে দ্রুত যাওয়ার কারণে অনেক কাটা তার চোরেরা নিয়ে যেতে পারেনি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক নিপা রায় চৌধুরীর মুঠোফোনে নৈশ প্রহরী থাকতেও চুরি হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেরাতে নৈশ প্রহরী ওমর ফারুকের বাবা জসির উদ্দিন ডিউটিতে ছিল। এভাবে ছেলের পরিবর্তে বাবা কি দায়িত্ব পালন করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধু সাফাই গেয়ে বলেন, কেন জরুরি কারণে ছেলে থাকতে না পারলে বাবা থাকেন। মানবিক কারণে এমনটা মেনে নেওয়া।

দীর্ঘদিন থেকে এমন কান্ড চলে আসছে এমন অভিযোগ বিষয়ে তিনি নিরব থাকেন। তবে পুলিশ ও সভাপতিকে জানানো হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন,
ভেবেছিলাম পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যেহেতু থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ আসলে সরাসরি জানাবো। আর এই সামান্য বিষয় ইউএনও স্যারকে জানানো হয়নি।

বোতলাগাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানলাম। এখনই প্রধান শিক্ষককে কল করে এ বিষয়ে তদারকি করছি। নৈশ প্রহরীর বিষয়টা নিয়ে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫০৫ বার পড়া হয়েছে

স্কুলের নৈশ প্রহরী ছেলের ডিউটি করেন বাবা, বৈদ্যুতিক তার চুরি হলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

আপডেট সময় ০২:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বোতলাগাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। প্রায় ১৫ দিন পার হলেও এবিষয়ে থানায় জানানো হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও না জানিয়েই প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমত নতুন তার কিনে সংযোগ দিয়ে নিয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরী ছেলের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবা রাতে নামকাওয়াস্তে ডিউটি করার কারণেই এই চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রধান শিক্ষকের প্রশ্রয়েই নৈশ প্রহরী প্রতিনিয়তই নিজে ডিউটি না করে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বেতন ভাতা তুলছে। স্থানীয় হওয়ার সুযোগ নিয়ে সে অন্য কাজে নিয়োজিত থাকছে। এতে স্কুলটি রাতের বেলা মূলতঃ অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে। অথচ নৈশ প্রহরীর বেতন বাবদ সরকারি অর্থ ঠিকই ব্যয় হচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন হলো বোতলাগাড়ী কালিতলা এলাকায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সহ একই চত্বরে থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালি মন্দির ও পাশের কয়েকটি বসত বাড়িতে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন কাউকেই বিষয়টা জানানো হয়নি।

এলাকাবাসির মতামত হলো একটা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ন্যুনতম হলেও দায়িত্বরত সভাপতি বা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো উচিত হলেও তা আড়াল করা হয়েছে। কারণ এতে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব অবহেলা তথা নিজের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাকে দিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টা প্রকাশ হয়ে পড়বে। আর এজন্য প্রধান শিক্ষকও ফেঁসে যাবেন। অথচ নৈশ প্রহরীর কাজে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা এলাকার সবার কাছে বড় প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, মূলত: আওয়ামী লীগ আমলে স্থানীয় এক নেতা এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। প্রধান শিক্ষকও একই মতাদর্শের হওয়ায় দুজনে মিলে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় আওয়ামী ঘরানার জসির উদ্দিনের ছেলে ওমর ফারুককে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে নিয়োগের পর থেকেই বেশির ভাগ সময় ছেলের পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাই রাতে স্কুলে থাকেন। আর ছেলে অন্য কাজ করেন। এই সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক মাসোহারা কমিশন নেন। যে কারণে চাকুরী বিধির এই অনিয়মকে দীর্ঘদিন থেকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। তাদের আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে স্কুলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

নৈশ প্রহরী ওমর ফারুক মুঠোফোনে বলেন, খুটি থেকে মেইন সার্ভিস তার চুরি হয়নি। এক ভবন থেকে আরেক ভবনের সংযোগ তার চুরি করেছে চোরেরা। শুধু আমাদের নয় আশেপাশে চুরি হয়েছে। আমার স্ত্রী গর্ভবতী তাই বেশ কিছু দিন থেকে বাবা ডিউটি করে। সেরাতে বাবা ছিলেন। তবে তিনি শব্দ পেয়ে দ্রুত যাওয়ার কারণে অনেক কাটা তার চোরেরা নিয়ে যেতে পারেনি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক নিপা রায় চৌধুরীর মুঠোফোনে নৈশ প্রহরী থাকতেও চুরি হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেরাতে নৈশ প্রহরী ওমর ফারুকের বাবা জসির উদ্দিন ডিউটিতে ছিল। এভাবে ছেলের পরিবর্তে বাবা কি দায়িত্ব পালন করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধু সাফাই গেয়ে বলেন, কেন জরুরি কারণে ছেলে থাকতে না পারলে বাবা থাকেন। মানবিক কারণে এমনটা মেনে নেওয়া।

দীর্ঘদিন থেকে এমন কান্ড চলে আসছে এমন অভিযোগ বিষয়ে তিনি নিরব থাকেন। তবে পুলিশ ও সভাপতিকে জানানো হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন,
ভেবেছিলাম পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যেহেতু থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ আসলে সরাসরি জানাবো। আর এই সামান্য বিষয় ইউএনও স্যারকে জানানো হয়নি।

বোতলাগাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানলাম। এখনই প্রধান শিক্ষককে কল করে এ বিষয়ে তদারকি করছি। নৈশ প্রহরীর বিষয়টা নিয়ে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।