ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছি’

চেকপোস্ট নিউজ::
12
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট। ছোট্ট বয়সে রাজপথে নেমে জীবন দেওয়া সেই শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা এবার যাচ্ছেন সংসদে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত যোগ্যতায় সংসদে যাচ্ছি না, যাচ্ছি শহীদ ও আহত পরিবারের হয়ে। আমার ছোট্ট সন্তান শহীদ জাবেরের মা হয়ে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর কালের কণ্ঠকে নিজের অভিব্যক্তি জানান শহীদ শিশু জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ভূমিকা কেমন থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। সংসদে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য একটি বড় দায়িত্ব।’

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি পবিত্র দায়িত্ব।

সংসদে আমি শহীদ পরিবার ও আহতদের হয়ে কথা বলার সুযোগ পাব। সংসদে আমার মূল লক্ষ্য থাকবে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায্য চাওয়া-পাওয়াগুলো যতটা সম্ভব পূরণে ভূমিকা রাখা। এছাড়া তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনে আমার ভূমিকা রাখা।’তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ পরিবারের কষ্ট কেউই পুরোপুরি দূর করতে পারবে না।

তবে যদি সামান্য কিছু করতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রয়াত সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, সন্তানকে তিনি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন, তার অনুপস্থিতি সবসময় হৃদয়ে ব্যথা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জাবিরকে প্রতিনিয়ত মিস করি। প্রতিটি মুহূর্তেই তাকে অনুভব করি।

ঘরে ঢুকি বা বের হই—সবসময়ই তার কথা মনে পড়ে।’প্রসঙ্গত, দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে সবার ছোট জাবির। রাজধানীর উত্তরায় ৫ আগস্ট পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষে জাবির ইব্রাহিমের (৬) গায়ে গুলি লাগে। সেসময় জাবির মা–বাবার সঙ্গে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েছিল। মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেকে থাকত সে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

‘ব্যক্তিগত পরিচয়ে নয়, শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যাচ্ছি’

আপডেট সময় ০৯:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
12
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট। ছোট্ট বয়সে রাজপথে নেমে জীবন দেওয়া সেই শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা এবার যাচ্ছেন সংসদে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত যোগ্যতায় সংসদে যাচ্ছি না, যাচ্ছি শহীদ ও আহত পরিবারের হয়ে। আমার ছোট্ট সন্তান শহীদ জাবেরের মা হয়ে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর কালের কণ্ঠকে নিজের অভিব্যক্তি জানান শহীদ শিশু জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ভূমিকা কেমন থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। সংসদে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমার জন্য একটি বড় দায়িত্ব।’

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি পবিত্র দায়িত্ব।

সংসদে আমি শহীদ পরিবার ও আহতদের হয়ে কথা বলার সুযোগ পাব। সংসদে আমার মূল লক্ষ্য থাকবে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায্য চাওয়া-পাওয়াগুলো যতটা সম্ভব পূরণে ভূমিকা রাখা। এছাড়া তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনে আমার ভূমিকা রাখা।’তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ পরিবারের কষ্ট কেউই পুরোপুরি দূর করতে পারবে না।

তবে যদি সামান্য কিছু করতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রয়াত সন্তানের স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, সন্তানকে তিনি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করেন, তার অনুপস্থিতি সবসময় হৃদয়ে ব্যথা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘আমি আমার জাবিরকে প্রতিনিয়ত মিস করি। প্রতিটি মুহূর্তেই তাকে অনুভব করি।

ঘরে ঢুকি বা বের হই—সবসময়ই তার কথা মনে পড়ে।’প্রসঙ্গত, দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে সবার ছোট জাবির। রাজধানীর উত্তরায় ৫ আগস্ট পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষে জাবির ইব্রাহিমের (৬) গায়ে গুলি লাগে। সেসময় জাবির মা–বাবার সঙ্গে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েছিল। মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেকে থাকত সে।