ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেত্রী যেভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

চেকপোস্ট নিউজ::
11

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়ন পাওয়া ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন। এ তালিকায় নাম রয়েছে সুবর্ণা ঠাকুরের। তবে তার মনোনয়নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও গত নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান সুবর্ণা ঠাকুর। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

সংরক্ষিত আসনের জন্য সারা দেশে মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত ৯০০ জনের মতো জমা দেন। তাদের মধ্য থেকে সোমবার চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য যে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয় তাদের একজন সুবর্ণা ঠাকুর।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দলে নতুন নেতৃত্ব আসা স্বাভাবিক। তবে এভাবে অন্য দল থেকে এসেই সংসদে চলে যাওয়া ত্যাগীদের জন্য হতাশার। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেছে, এমন বসন্তের কোকিলের বদলে দলের উচিত দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা।

আওয়ামী লীগের পদে থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, অনুমতি ছাড়াই ওই কমিটিতে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সুবর্ণা ঠাকুর হিন্দু ধর্মের মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং ওড়াকান্দি মীড্ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার বাবার নাম অনিল কৃষ্ণ মন্ডল। স্বামীর নাম পদ্মনাথ ঠাকুর।
সুবর্ণা ঠাকুর দীর্ঘদিন থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের সমাজ সংস্কারমূলক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় (ওড়াকান্দি) থেকে মতুয়া আদর্শ প্রচার, নারী জাগরণ ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করেন। ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের তিনটি সংগঠন রয়েছে। তার একটি হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন। এটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুবর্ণা ঠাকুরের স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর।

এবারের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত ৯০০ জনের মতো জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান পাপন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৭:০০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
৫০৪ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ নেত্রী যেভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

আপডেট সময় ০৭:০০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
11

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংরক্ষিত নারী আসনে দলের মনোনয়ন পাওয়া ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন। এ তালিকায় নাম রয়েছে সুবর্ণা ঠাকুরের। তবে তার মনোনয়নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও গত নির্বাচনের পর বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান সুবর্ণা ঠাকুর। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

সংরক্ষিত আসনের জন্য সারা দেশে মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত ৯০০ জনের মতো জমা দেন। তাদের মধ্য থেকে সোমবার চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য যে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয় তাদের একজন সুবর্ণা ঠাকুর।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দলে নতুন নেতৃত্ব আসা স্বাভাবিক। তবে এভাবে অন্য দল থেকে এসেই সংসদে চলে যাওয়া ত্যাগীদের জন্য হতাশার। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা গেছে, এমন বসন্তের কোকিলের বদলে দলের উচিত দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা।

আওয়ামী লীগের পদে থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, অনুমতি ছাড়াই ওই কমিটিতে আমার নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সুবর্ণা ঠাকুর হিন্দু ধর্মের মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। তিনি কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং ওড়াকান্দি মীড্ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার বাবার নাম অনিল কৃষ্ণ মন্ডল। স্বামীর নাম পদ্মনাথ ঠাকুর।
সুবর্ণা ঠাকুর দীর্ঘদিন থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের সমাজ সংস্কারমূলক ও ধর্মীয় নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় (ওড়াকান্দি) থেকে মতুয়া আদর্শ প্রচার, নারী জাগরণ ও শিক্ষার প্রসারে কাজ করেন। ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের তিনটি সংগঠন রয়েছে। তার একটি হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন। এটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুবর্ণা ঠাকুরের স্বামী পদ্মনাথ ঠাকুর।

এবারের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। তবে শেষ পর্যন্ত ৯০০ জনের মতো জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা, নাদিয়া পাঠান পাপন।