পরিচর্যার অভাবে বিপন্ন পুরনো গাছ, চারা রোপণেই থেমে বন বিভাগ?

কক্সবাজার–টেকনাফ সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়–বন ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই সড়ক সংলগ্ন খুনিয়া পালং ইউনিয়নের মির্জাল আলীর দোকান ছোট স্টেশনের উত্তরে একটি বয়স্ক গাছ বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে আগাছায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। শাখা–প্রশাখা শুকিয়ে আসছে, গাছটি আজ মৃতপ্রায়। অথচ সামান্য পরিচর্যা পেলে এটি আরও বহু বছর জীবিত থাকতে পারত।
আমাদের দেশে বন বিভাগ নামে একটি সরকারি সংস্থা রয়েছে, যাদের ওপর বন সংরক্ষণ ও বনায়নের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে প্রশ্ন জাগে—তাদের দায়িত্ব কি কেবল চারা রোপণেই সীমাবদ্ধ?
দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়া পালং ইউনিয়নে বন বিভাগের যে কার্যক্রম চোখে পড়ে, তার মধ্যে রয়েছে—কাঠুরিয়াদের কাছ থেকে দা-কুড়াল জব্দ করা, পাহাড় থেকে অবৈধ কাঠ আহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা কখনো সমঝোতার মাধ্যমে বিষয় নিষ্পত্তি করা। পাশাপাশি মাঝে মাঝে কিছু চারাগাছ রোপণ করা হয়। তবে বাস্তবতা হলো, রোপণকৃত অনেক চারাই পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হয়ে যায়, আর পুরোনো বয়স্ক গাছগুলো পড়ে থাকে অবহেলায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরনো গাছগুলোর কোনো নিয়মিত পরিচর্যা হচ্ছে না। গাছের গোড়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় ধীরে ধীরে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেকেই বলেন, “এই গাছগুলো আমাদের এলাকার ঐতিহ্য, কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের অভাবে একে একে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ মাঝে মাঝে চারা রোপণ করলেও পুরনো গাছগুলোর দিকে তেমন নজর নেই।”
বাপা কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক বলেন, “শুধু চারা রোপণ করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। পুরনো গাছ সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তারা আরও দাবি করেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গাছ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
বন বিভাগের বনায়ন ও পুনঃবনায়ন কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধু নতুন গাছ লাগানো নয়; বরং বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যাও সমান গুরুত্ব পাওয়া দরকার। গাছের চারা রোপণ, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমিতে পুনঃবনায়ন—এই দায়িত্বগুলোর পাশাপাশি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি।
একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ কেবল অক্সিজেন উৎপাদনই করে না, এটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটি সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি বড় গাছ কেটে ফেলতে কয়েক মিনিট লাগে, কিন্তু সেই গাছের সমান উপকার পেতে একটি চারাকে বড় হতে লাগে বহু বছর।
তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—বন সংরক্ষণ বলতে আমরা কি শুধু উৎসবমুখর চারা রোপণ কর্মসূচিকেই বুঝব, নাকি বিদ্যমান বনসম্পদ রক্ষায় কার্যকর ও নিয়মিত উদ্যোগ নেব? কক্সবাজার–টেকনাফ সড়কের পাশের সেই মৃতপ্রায় গাছটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, দায়িত্বের জায়গায় এখনও বড় ধরনের শূন্যতা রয়ে গেছে।
এখনই সময় বন বিভাগের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নতুন করে ভাবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরনো গাছগুলোর কোনো নিয়মিত পরিচর্যা হচ্ছে না। গাছের গোড়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় ধীরে ধীরে এগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেকেই বলেন, “এই গাছগুলো আমাদের এলাকার ঐতিহ্য, কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের অভাবে একে একে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগ মাঝে মাঝে চারা রোপণ করলেও পুরনো গাছগুলোর দিকে তেমন নজর নেই।”
একজন পরিবেশকর্মী বলেন, “শুধু চারা রোপণ করে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। পুরনো গাছ সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তারা আরও দাবি করেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গাছ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।























