ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মূল্যায়ন পাওয়া যাবে’ প্রশ্ন মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেত্রীর

চেকপোস্ট নিউজ::

১৯৮৭ সালে সোনাগাজী কলেজ সংসদের নির্বাচিত সম্পাদক থেকে শুরু করে বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডভোকেট সাহানা আক্তার সানু। ৩৮ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অসংখ্য হামলা-মামলা আর কারাবরণ—তবুও দলের প্রতি অবিচল থেকেছেন । কিন্তু দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারের পর সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে মূল্যায়িত না হওয়ায় দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন। সম্প্রতি বিএনপির ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে স্থান না পাওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনীতির শুরু। ১৯৯২ সালে বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলকে হারিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন তিনি। তৎকালীন ফেনীর জয়নাল হাজারীর স্টিয়ারিং কমিটির নির্যাতন থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমল পর্যন্ত তার পরিবার অসংখ্যবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। এমনকি তার বৃদ্ধ পিতা পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে অকালে মৃত্যুবরণ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে গিয়ে তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি পাওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। পেশায় আইনজীবী হওয়ায় জুলাই আন্দোলনসহ ১৭ বছরের আন্দোলনে কারাবন্দী অসংখ্য নেতাকর্মীকে তিনি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। করোনা মহামারি ও বন্যার সময়েও তিনি ফেনীসহ সারাদেশে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু ২০০৯ সালের একটি আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বলেছিলেন-আমার কাছে তোমার মূল্য অনেক বেশি। সামনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তোমাকে এমপি বানানো হবে। সেই দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এর মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে মাত্র ১ মিনিট সময় পাওয়ায় বর্তমান নেতৃত্বের কাছে সেই না বলা কথাগুলো তুলে ধরতে পারিনি।

সংরক্ষিত আসনে এবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি দলের হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা মনোনীত হয়েছেন তারা সবাই যোগ্য। তবে তাদের অনেকেই দলীয় পদে এবং বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। ৩৮ বছর দলকে নিঃস্বার্থভাবে দেওয়ার পর আজ আমি এবং আমার কর্মীরা হীনমন্যতায় ভুগছি। দলের হাইকমান্ডের কাছে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মূল্যায়ন পাওয়া যাবে?

​তিনি আরও যোগ করেন, সংরক্ষিত আসন কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য বারবার না রেখে তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নারীদের মাঝে বণ্টন করলে বৈষম্য দূর হতো। মিছিলের শেষ ব্যক্তিটিকেও মূল্যায়ন করার যে আশ্বাস শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।

​সবশেষে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি এখনও আশায় আছেন যে, বর্তমান নেতৃত্ব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন এবং তাকে জনগণের সেবা করার বড় পরিসরে সুযোগ দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫০৯ বার পড়া হয়েছে

‘আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মূল্যায়ন পাওয়া যাবে’ প্রশ্ন মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেত্রীর

আপডেট সময় ১০:০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

১৯৮৭ সালে সোনাগাজী কলেজ সংসদের নির্বাচিত সম্পাদক থেকে শুরু করে বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডভোকেট সাহানা আক্তার সানু। ৩৮ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অসংখ্য হামলা-মামলা আর কারাবরণ—তবুও দলের প্রতি অবিচল থেকেছেন । কিন্তু দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারের পর সম্প্রতি বিএনপি ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনে মূল্যায়িত না হওয়ায় দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন। সম্প্রতি বিএনপির ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে স্থান না পাওয়ায় এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনীতির শুরু। ১৯৯২ সালে বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বর্তমান যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলকে হারিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন তিনি। তৎকালীন ফেনীর জয়নাল হাজারীর স্টিয়ারিং কমিটির নির্যাতন থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমল পর্যন্ত তার পরিবার অসংখ্যবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। এমনকি তার বৃদ্ধ পিতা পুলিশের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে অকালে মৃত্যুবরণ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে গিয়ে তার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি পাওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র মায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। পেশায় আইনজীবী হওয়ায় জুলাই আন্দোলনসহ ১৭ বছরের আন্দোলনে কারাবন্দী অসংখ্য নেতাকর্মীকে তিনি বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। করোনা মহামারি ও বন্যার সময়েও তিনি ফেনীসহ সারাদেশে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু ২০০৯ সালের একটি আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে বলেছিলেন-আমার কাছে তোমার মূল্য অনেক বেশি। সামনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তোমাকে এমপি বানানো হবে। সেই দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এর মনোনয়ন সাক্ষাৎকারে মাত্র ১ মিনিট সময় পাওয়ায় বর্তমান নেতৃত্বের কাছে সেই না বলা কথাগুলো তুলে ধরতে পারিনি।

সংরক্ষিত আসনে এবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি দলের হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যারা মনোনীত হয়েছেন তারা সবাই যোগ্য। তবে তাদের অনেকেই দলীয় পদে এবং বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। ৩৮ বছর দলকে নিঃস্বার্থভাবে দেওয়ার পর আজ আমি এবং আমার কর্মীরা হীনমন্যতায় ভুগছি। দলের হাইকমান্ডের কাছে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মূল্যায়ন পাওয়া যাবে?

​তিনি আরও যোগ করেন, সংরক্ষিত আসন কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য বারবার না রেখে তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নারীদের মাঝে বণ্টন করলে বৈষম্য দূর হতো। মিছিলের শেষ ব্যক্তিটিকেও মূল্যায়ন করার যে আশ্বাস শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন।

​সবশেষে তিনি জানান, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি এখনও আশায় আছেন যে, বর্তমান নেতৃত্ব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন এবং তাকে জনগণের সেবা করার বড় পরিসরে সুযোগ দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।