ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্যাতনের ইতিহাস পেছনে ফেলে রাজনীতিতে মারজিয়া বেগম

চেকপোস্ট নিউজ::

লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তিনজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে একজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। বিষয়টি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মারজিয়া বেগম। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মরহুম ডা. ফয়েজ আহমেদের সহধর্মিণী। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নারী শাখার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মারজিয়া বেগমের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করছেন এবং তার রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।

জানা যায়, মারজিয়া বেগমের স্বামী ডা. ফয়েজ আহমেদ লক্ষ্মীপুরে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং মানবিক কাজের জন্য এলাকায় সুনাম অর্জন করেন।

২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল তার বাসায় প্রবেশ করে তাকে ছাদে নিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিচে ফেলে দেয়। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

তৎকালীন সময়ে এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের না হলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন ডা. ফয়েজ আহমেদের বড় ছেলে ডা. হাসানুল বান্না।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানান, একজন পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে মারজিয়া বেগমের এই মনোনয়ন দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়াও তার পরিবার বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা আশা করছি, তিনি জাতীয় পর্যায়েও লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মারজিয়া বেগমকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, মারজিয়া বেগমের মনোনয়ন শুধু আমাদের দলের জন্য নয়, বরং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৫১১ বার পড়া হয়েছে

নির্যাতনের ইতিহাস পেছনে ফেলে রাজনীতিতে মারজিয়া বেগম

আপডেট সময় ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তিনজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে একজন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। বিষয়টি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মারজিয়া বেগম। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মরহুম ডা. ফয়েজ আহমেদের সহধর্মিণী। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নারী শাখার সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মারজিয়া বেগমের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করছেন এবং তার রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।

জানা যায়, মারজিয়া বেগমের স্বামী ডা. ফয়েজ আহমেদ লক্ষ্মীপুরে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং মানবিক কাজের জন্য এলাকায় সুনাম অর্জন করেন।

২০১৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল তার বাসায় প্রবেশ করে তাকে ছাদে নিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিচে ফেলে দেয়। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

তৎকালীন সময়ে এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের না হলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন ডা. ফয়েজ আহমেদের বড় ছেলে ডা. হাসানুল বান্না।

সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান জানান, একজন পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে মারজিয়া বেগমের এই মনোনয়ন দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়াও তার পরিবার বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা আশা করছি, তিনি জাতীয় পর্যায়েও লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মারজিয়া বেগমকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, মারজিয়া বেগমের মনোনয়ন শুধু আমাদের দলের জন্য নয়, বরং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।