ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক নিন্দা সীমিত: বাস্তব পদক্ষেপে গুরুত্ব দিন

হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার সাংবাদিক: শুধু নিন্দা নয়, দরকার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল::
236

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার ঘটনা এখন আর বিরল নয়; বরং প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। ফেসবুকে ক্ষোভের ঢেউ ওঠে, কিছু মানববন্ধন হয়, কিছু বক্তব্য দেওয়া হয় তারপরই সব থেমে যায়। যেন নিন্দা আর প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে আমাদের দায়বদ্ধতা। প্রশ্ন হলো এই ক্ষণস্থায়ী প্রতিবাদ কি কোনো সমাধান দেয়? একজন সাংবাদিকের পরিবার যখন জীবনের কঠিন বাস্তবতায় পড়ে যায়, তখন কি এসব ফেসবুক স্ট্যাটাস তাদের জীবিকা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে? উত্তর স্পষ্ট না।

 

সাংবাদিকের পথচলার ঝুঁকি

একজন সাংবাদিক প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহের পথে অসংখ্য বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হন। অনেক সময় জীবন বাজি রেখে, নানা হুমকি-চাপ উপেক্ষা করে তিনি চেষ্টা করেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সেই সংবাদ যদি কারও পক্ষে যায়, তখন তিনি হয়ে ওঠেন ‘সত্যবাদী সাংবাদিক’; আর বিপক্ষে গেলেই জোটে ‘হলুদ সাংবাদিক’ কিংবা ‘চাঁদাবাজ সাংবাদিক’-এর তকমা। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই প্রচার করা হয়, “টাকা চেয়েছিল, না দেওয়ায় নিউজ করেছে।” এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপবাদ দিয়ে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সম্মানকে ছোট করা হয়, যা কেবল তার নয়, গোটা গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় মিথ্যা মামলা, অযথা জেল-হাজত, চাঁদাবাজির অভিযোগ, কিংবা খুনের হুমকি। এগুলো সাংবাদিকতার পরিবেশকে চরম সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকরা প্রতিদিন কাজ করছেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর ভয়-আতঙ্কের ভেতর দিয়ে।

 

নিন্দা-প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ উদ্যোগ

কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে বা নিহত হলে আমরা কিছুদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করি। ফেসবুকে ঝড় তুলি, ব্যানার হাতে মানববন্ধন করি, কিছু জোরালো বক্তৃতা দিই। কিন্তু এর পর? সবকিছু নিভে যায় ধীরে ধীরে। নিহতের পরিবার রয়ে যায় অভাব-অনটনে, আহত সাংবাদিককে চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়, আর বিচারপ্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশে যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তার কোনো ঘটনারই সঠিক বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। তারা জানে, সাংবাদিককে হত্যা করলেও পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব।

 

সংগঠনের প্রাচুর্য, কার্যক্রমের শূন্যতা

আমাদের দেশে ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে প্রেসক্লাব আছে, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেও প্রেসক্লাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০টি জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনও সক্রিয় থাকার দাবি করে। প্রতিটি সংগঠনের আছে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শাখা-প্রশাখা, রয়েছে শত শত সদস্য। কিন্তু বাস্তবে এদের ভূমিকা কী?

কোনো সাংবাদিক বিপদে পড়লে কি তারা পাশে দাঁড়ায়? আর্থিক সহযোগিতা দেয়? নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে অনুদান তুলে দেয়? না। বরং সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ফেসবুকে নিন্দা-প্রতিবাদ পোস্ট দেওয়া এবং স্লোগান তোলার মধ্যে। কেউ কেউ আবার নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সঙ্গে গিয়ে ছবি তুলে পোস্ট দেয়, এর বেশি কিছু নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো সাংবাদিক মিথ্যা মামলায় জড়ালে সংগঠন তাকে রক্ষার বদলে উল্টো বহিষ্কার করে নিজেদের দায় এড়ায়। ফলে সাংবাদিকরা যাদের ভরসা করার কথা, তারাই হয়ে ওঠে অবিশ্বস্ত।

 

ঐক্যের অভাবই মূল দুর্বলতা

প্রশ্ন জাগে-এত সংগঠন, এত সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন কার্যকর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারি না? কেন একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামতে পারি না? আসলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমাদের ঐক্যের অভাব। প্রত্যেকে নিজস্ব ব্যানার, নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম, নিজস্ব নেতৃত্বে ব্যস্ত। ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা বা হত্যার ঘটনাও থেকে যায় উপেক্ষিত।

আমাদের সহকর্মী নিহত হলেও আমরা কখনও কলম বিরতি দিইনি, প্রকাশনা বন্ধ করিনি, কিংবা দেশব্যাপী একযোগে জোরালো কর্মসূচি পালন করিনি। গণমাধ্যম যখন একযোগে প্রতিবাদ জানায় না, তখন রাষ্ট্র বা প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হয় না। ফলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিচারও অধরাই থেকে যায়।

 

প্রয়োজন শক্তিশালী পদক্ষেপ

শুধু নিন্দা নয়, এখন প্রয়োজন কার্যকর ও শক্তিশালী পদক্ষেপ। সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে একদিনের কলম বিরতি, প্রকাশনা বন্ধ রাখা কিংবা দেশব্যাপী আন্দোলন হতে পারে প্রথম ধাপ। একই সঙ্গে সব সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেসক্লাবকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রয়োজনে একটি কেন্দ্রীভূত সাংবাদিক নিরাপত্তা তহবিল গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিপদে পড়া সাংবাদিক বা নিহতের পরিবার আর্থিকভাবে সহায়তা পায়। আইনি সহায়তার জন্য আলাদা ফোরাম গঠন করতে হবে, যাতে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির শিকার সাংবাদিকরা রক্ষাকবচ পান।

 

পরিশেষে

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কিন্তু এই স্তম্ভ যদি বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে গণতন্ত্রও টিকে থাকতে পারে না। সাংবাদিক নিরাপদ না হলে সত্য নিরাপদ থাকে না, এই কথাটি আমাদের আজই মনে রাখতে হবে।

তাই এখন আর কেবল নিন্দা নয়, চাই কার্যকর পদক্ষেপ। চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। চাই বাস্তবধর্মী উদ্যোগ। কারণ সাংবাদিকের নিরাপত্তা মানে কেবল একজন মানুষের সুরক্ষা নয়, এটি গোটা সমাজে সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার সমার্থক

 

 

লেখক:

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল

সম্পাদক/প্রকাশক: চেকপোস্ট

প্রতিনিধি: আনন্দ টিভি

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৬৩০ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক নিন্দা সীমিত: বাস্তব পদক্ষেপে গুরুত্ব দিন

হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার সাংবাদিক: শুধু নিন্দা নয়, দরকার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ

আপডেট সময় ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
236

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার ঘটনা এখন আর বিরল নয়; বরং প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়। ফেসবুকে ক্ষোভের ঢেউ ওঠে, কিছু মানববন্ধন হয়, কিছু বক্তব্য দেওয়া হয় তারপরই সব থেমে যায়। যেন নিন্দা আর প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে আমাদের দায়বদ্ধতা। প্রশ্ন হলো এই ক্ষণস্থায়ী প্রতিবাদ কি কোনো সমাধান দেয়? একজন সাংবাদিকের পরিবার যখন জীবনের কঠিন বাস্তবতায় পড়ে যায়, তখন কি এসব ফেসবুক স্ট্যাটাস তাদের জীবিকা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে? উত্তর স্পষ্ট না।

 

সাংবাদিকের পথচলার ঝুঁকি

একজন সাংবাদিক প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহের পথে অসংখ্য বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হন। অনেক সময় জীবন বাজি রেখে, নানা হুমকি-চাপ উপেক্ষা করে তিনি চেষ্টা করেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে। কিন্তু সেই সংবাদ যদি কারও পক্ষে যায়, তখন তিনি হয়ে ওঠেন ‘সত্যবাদী সাংবাদিক’; আর বিপক্ষে গেলেই জোটে ‘হলুদ সাংবাদিক’ কিংবা ‘চাঁদাবাজ সাংবাদিক’-এর তকমা। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই প্রচার করা হয়, “টাকা চেয়েছিল, না দেওয়ায় নিউজ করেছে।” এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপবাদ দিয়ে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সম্মানকে ছোট করা হয়, যা কেবল তার নয়, গোটা গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় মিথ্যা মামলা, অযথা জেল-হাজত, চাঁদাবাজির অভিযোগ, কিংবা খুনের হুমকি। এগুলো সাংবাদিকতার পরিবেশকে চরম সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে সাংবাদিকরা প্রতিদিন কাজ করছেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর ভয়-আতঙ্কের ভেতর দিয়ে।

 

নিন্দা-প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ উদ্যোগ

কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে বা নিহত হলে আমরা কিছুদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করি। ফেসবুকে ঝড় তুলি, ব্যানার হাতে মানববন্ধন করি, কিছু জোরালো বক্তৃতা দিই। কিন্তু এর পর? সবকিছু নিভে যায় ধীরে ধীরে। নিহতের পরিবার রয়ে যায় অভাব-অনটনে, আহত সাংবাদিককে চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়, আর বিচারপ্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, দেশে যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তার কোনো ঘটনারই সঠিক বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। তারা জানে, সাংবাদিককে হত্যা করলেও পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব।

 

সংগঠনের প্রাচুর্য, কার্যক্রমের শূন্যতা

আমাদের দেশে ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে প্রেসক্লাব আছে, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেও প্রেসক্লাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০টি জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনও সক্রিয় থাকার দাবি করে। প্রতিটি সংগঠনের আছে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শাখা-প্রশাখা, রয়েছে শত শত সদস্য। কিন্তু বাস্তবে এদের ভূমিকা কী?

কোনো সাংবাদিক বিপদে পড়লে কি তারা পাশে দাঁড়ায়? আর্থিক সহযোগিতা দেয়? নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে অনুদান তুলে দেয়? না। বরং সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ফেসবুকে নিন্দা-প্রতিবাদ পোস্ট দেওয়া এবং স্লোগান তোলার মধ্যে। কেউ কেউ আবার নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সঙ্গে গিয়ে ছবি তুলে পোস্ট দেয়, এর বেশি কিছু নয়। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো সাংবাদিক মিথ্যা মামলায় জড়ালে সংগঠন তাকে রক্ষার বদলে উল্টো বহিষ্কার করে নিজেদের দায় এড়ায়। ফলে সাংবাদিকরা যাদের ভরসা করার কথা, তারাই হয়ে ওঠে অবিশ্বস্ত।

 

ঐক্যের অভাবই মূল দুর্বলতা

প্রশ্ন জাগে-এত সংগঠন, এত সাংবাদিক থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন কার্যকর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারি না? কেন একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামতে পারি না? আসলে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমাদের ঐক্যের অভাব। প্রত্যেকে নিজস্ব ব্যানার, নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম, নিজস্ব নেতৃত্বে ব্যস্ত। ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা বা হত্যার ঘটনাও থেকে যায় উপেক্ষিত।

আমাদের সহকর্মী নিহত হলেও আমরা কখনও কলম বিরতি দিইনি, প্রকাশনা বন্ধ করিনি, কিংবা দেশব্যাপী একযোগে জোরালো কর্মসূচি পালন করিনি। গণমাধ্যম যখন একযোগে প্রতিবাদ জানায় না, তখন রাষ্ট্র বা প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হয় না। ফলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিচারও অধরাই থেকে যায়।

 

প্রয়োজন শক্তিশালী পদক্ষেপ

শুধু নিন্দা নয়, এখন প্রয়োজন কার্যকর ও শক্তিশালী পদক্ষেপ। সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে একদিনের কলম বিরতি, প্রকাশনা বন্ধ রাখা কিংবা দেশব্যাপী আন্দোলন হতে পারে প্রথম ধাপ। একই সঙ্গে সব সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেসক্লাবকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রয়োজনে একটি কেন্দ্রীভূত সাংবাদিক নিরাপত্তা তহবিল গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিপদে পড়া সাংবাদিক বা নিহতের পরিবার আর্থিকভাবে সহায়তা পায়। আইনি সহায়তার জন্য আলাদা ফোরাম গঠন করতে হবে, যাতে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির শিকার সাংবাদিকরা রক্ষাকবচ পান।

 

পরিশেষে

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কিন্তু এই স্তম্ভ যদি বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে গণতন্ত্রও টিকে থাকতে পারে না। সাংবাদিক নিরাপদ না হলে সত্য নিরাপদ থাকে না, এই কথাটি আমাদের আজই মনে রাখতে হবে।

তাই এখন আর কেবল নিন্দা নয়, চাই কার্যকর পদক্ষেপ। চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। চাই বাস্তবধর্মী উদ্যোগ। কারণ সাংবাদিকের নিরাপত্তা মানে কেবল একজন মানুষের সুরক্ষা নয়, এটি গোটা সমাজে সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার সমার্থক

 

 

লেখক:

শেখ শাহাউর রহমান বেলাল

সম্পাদক/প্রকাশক: চেকপোস্ট

প্রতিনিধি: আনন্দ টিভি