ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকার অভাবে থমকে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের প্রতিভাবান ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির ক্যারিয়ার

উলিপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::
23

অর্থনৈতিক সংকটে থমকে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামের উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির স্বপ্নের পথচলা। পরিবার ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

কুড়িগ্রাম জেলা-এর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা রাফাত ইতোমধ্যেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। রংপুর বিভাগীয় দলে খেলার পাশাপাশি ঢাকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করেও উন্নত প্রশিক্ষণের অভাবে তার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম স্টেডিয়াম-এ অনুশীলনেই সময় কাটে তার। কভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ কিংবা অন ড্রাইভ—প্রতিটি শটেই দেখা যায় দক্ষতার ছাপ। তবুও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রাফাত ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগীয় ক্রিকেটে জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। পরে রংপুর বিভাগীয় দলে জায়গা করে নিয়ে অংশ নেন ওয়াইসিএল ইস্ট জোনে। ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে রাইজিং স্টার ক্লাবের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং দ্বিতীয় বিভাগে মিরপুর বয়েজ ক্লাবের হয়ে ৩৫০ রানসহ তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করেন।

রাফাত আল রাফি বলেন, “জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ভালো করেছি। কিন্তু বড় সমস্যা অনুশীলন সুবিধা। কুড়িগ্রামে সেই সুযোগ নেই। বাবা আগে সহযোগিতা করলেও এখন আর পারছেন না।”

তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রায়হান কবির জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ছেলের স্বপ্ন পূরণে বাধা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভালো কোনো একাডেমিতে অন্তত ছয় মাস কোচিং পেলে আমার ছেলে জাতীয় দলে খেলতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। সরকার ও বিসিবির কাছে সহায়তা চাই।”

রাফির কোচ নাজমুল হুদা লাকু বলেন, “তার ডেডিকেশন ও ব্যাটিং স্টাইল অন্যদের থেকে আলাদা। সঠিক গাইডলাইন পেলে সে দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।”

এদিকে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

উলিপুর উপজেলা-এর দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার গ্রামের বাসিন্দা রাফাত আল রাফি রায়হান কবির ও জোসনা পারভীন দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণই একদিন দেশের ক্রিকেটে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৩:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৭ বার পড়া হয়েছে

টাকার অভাবে থমকে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের প্রতিভাবান ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির ক্যারিয়ার

আপডেট সময় ০৩:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
23

অর্থনৈতিক সংকটে থমকে যেতে বসেছে কুড়িগ্রামের উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার রাফাত আল রাফির স্বপ্নের পথচলা। পরিবার ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

কুড়িগ্রাম জেলা-এর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা রাফাত ইতোমধ্যেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। রংপুর বিভাগীয় দলে খেলার পাশাপাশি ঢাকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করেও উন্নত প্রশিক্ষণের অভাবে তার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম স্টেডিয়াম-এ অনুশীলনেই সময় কাটে তার। কভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ কিংবা অন ড্রাইভ—প্রতিটি শটেই দেখা যায় দক্ষতার ছাপ। তবুও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রাফাত ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগীয় ক্রিকেটে জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ রান করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। পরে রংপুর বিভাগীয় দলে জায়গা করে নিয়ে অংশ নেন ওয়াইসিএল ইস্ট জোনে। ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে রাইজিং স্টার ক্লাবের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং দ্বিতীয় বিভাগে মিরপুর বয়েজ ক্লাবের হয়ে ৩৫০ রানসহ তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি করেন।

রাফাত আল রাফি বলেন, “জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ভালো করেছি। কিন্তু বড় সমস্যা অনুশীলন সুবিধা। কুড়িগ্রামে সেই সুযোগ নেই। বাবা আগে সহযোগিতা করলেও এখন আর পারছেন না।”

তার বাবা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রায়হান কবির জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ছেলের স্বপ্ন পূরণে বাধা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভালো কোনো একাডেমিতে অন্তত ছয় মাস কোচিং পেলে আমার ছেলে জাতীয় দলে খেলতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। সরকার ও বিসিবির কাছে সহায়তা চাই।”

রাফির কোচ নাজমুল হুদা লাকু বলেন, “তার ডেডিকেশন ও ব্যাটিং স্টাইল অন্যদের থেকে আলাদা। সঠিক গাইডলাইন পেলে সে দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।”

এদিকে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ক্রীড়া শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

উলিপুর উপজেলা-এর দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার গ্রামের বাসিন্দা রাফাত আল রাফি রায়হান কবির ও জোসনা পারভীন দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে দ্বিতীয়। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণই একদিন দেশের ক্রিকেটে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠতে পারে।